জাতীয়

মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের দিনই বড় রদবদল: সরিয়ে দেওয়া হলো চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানকে

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর – ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে দেশজুড়ে পোশাকশ্রমিকদের তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের মাঝেই তৈরি পোশাক খাতের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডে ঘটল বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম সভা শুরু হওয়ার মধ্যেই হঠাৎ বদলে ফেলা হলো বোর্ডের প্রধানকে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানকে তার পদ থেকে সরিয়ে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়েছে।

একই আদেশে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী-কে।

হুট করে কেন এই বদলি? প্রজ্ঞাপনে নীরবতা

পোশাকশ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ সামাল দিতে এবং বেতন পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর ৬ সদস্যের এই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছিল সরকার। পদাধিকার বলে স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রধানই এই বিশেষ বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তবে প্রথম সভার দিনেই কেন শেখ আশফাকুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হলো, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তার কোনো নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। প্রশাসনিক এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে শিল্পকূটনীতি ও প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জটিল সংকটের মুখে নতুন চেয়ারম্যান

বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পোশাকশ্রমিকদের দাবি—ন্যূনতম মজুরি এক লাফে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও সাভারে প্রতিদিন ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মহাসড়ক অবরোধের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

এমন এক সংকটময় ও স্পর্শকাতর সময়ে মজুরি বোর্ডের হাল ধরলেন নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী। একদিকে মালিকপক্ষের উৎপাদন খরচের হিসাব, অন্যদিকে রাজপথে নামা শ্রমিকদের পেটের টান—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করাই এখন নতুন চেয়ারম্যানের সামনে সবচেয়ে বড় আইনি ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ।

এনএন/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language