জাতীয়

অক্টোবরের ২৮ দিনেই এলো ৩২,৬৬৮ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর – ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জোয়ার অব্যাহত রেখেছেন প্রবাসীরা। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৮ দিনেই দেশে এসেছে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন গতি পেয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনেই ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ (২.৬৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

রেমিট্যান্সে ১৩.৫০ শতাংশের উল্লম্ফন

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বাড়ার এই হার বেশ আশাব্যঞ্জক।

  • গত বছরের অক্টোবরে (২৮ দিন): এসেছিল প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার।
  • চলতি বছর অক্টোবরে (২৮ দিন): এসেছে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
  • বৃদ্ধি: ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার (১৩.৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি)।

চলতি অর্থবছরে ৪ মাসে রেমিট্যান্সের গ্রাফ

অর্থবছরের শুরু থেকেই (১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত) ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ধারা ঊর্ধ্বমুখী। এই চার মাসে দেশে মোট ১,১২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৯২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে অর্থবছরের এ পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক আয়ের চিত্র:

  • জুলাই: ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার
  • আগস্ট: ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার
  • সেপ্টেম্বর: ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার
  • অক্টোবর (২৮ দিন পর্যন্ত): ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার

রিজার্ভে স্বস্তি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার এবং সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি অর্থবছরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখে ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈধ পথে ডলার পাঠানোর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা বজায় থাকায় প্রবাসী আয় দেশে আসার হার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে প্রবাসী আয়ের এই জোয়ার অর্থনীতিতে বড় নিয়ামক ভূমিকা রাখছে।

এনএন/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language