বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে চায় জার্মানি

ঢাকা,২৮ অক্টোবর-জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পাশে থাকতে এসেছি।’
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে জার্মান পুনঃএকত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ ও ইভানা লোৎজ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জার্মানির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
কোফলার বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন এগিয়ে নিতে জার্মানি বাংলাদেশের সরকার ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জার্মানির উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।
তিনি বলেন, প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও দুই দেশের অংশীদারিত্বে সাফল্যের উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।
‘বাংলাদেশের জনগণ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন,’ বলেন তিনি।
জার্মান উপমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘গ্লোবাল শিল্ড এগেইনস্ট ক্লাইমেট রিস্কস’ উদ্যোগ, জলবায়ু অভিযোজন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতাকে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তাঁর মতে, এ রূপান্তর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কোফলার বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি স্বীকার করেন, খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম বাংলাদেশের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জার্মানিও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কোফলার বলেন, ‘আমি জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করে এখানে এসেছি শুধু এসব চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করতে নয়, বরং কীভাবে আমরা একসঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করতে।’
তিনি বলেন, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই কেবল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে পারব,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) শ্রেণি থেকে উত্তরণে অভিনন্দন জানিয়ে কোফলার বলেন, এ প্রক্রিয়া টেকসই করতে অর্থনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রতি জার্মানির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কোফলার বলেন, বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পাশে থাকা জার্মানি ও ইউরোপের দায়িত্ব।
অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো সফররত কোফলার জানান, তিন দিনের সফরে তিনি নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এসব মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ, দেশটির বাস্তব পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ স্মরণে পালিত জার্মান ঐক্য দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কোফলার বলেন, এ দিবস শান্তি, সংহতি ও বিভাজন অতিক্রমের প্রতীক। বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
এস এম/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬







