রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের! আকাশে জোড়া মিসাইল ধ্বংসের দাবি সৌদির

রিয়াদ, ২৭ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার আবহেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুথি গোষ্ঠী। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র সামরিক সদস্য ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁরা অত্যন্ত নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই সরাসরি হামলা চালিয়েছেন এবং তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
হুথিদের এমন বড় দাবির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ) সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, হুথিদের দিকে থেকে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই মাঝআকাশে ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করেছে সৌদি এয়ার ডিফেন্স।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, মিসাইল দুটি আকাশেই প্রতিহত করা গেলেও সেগুলোর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ রিয়াদ শহরের ওপর আছড়ে পড়ে, যার ফলে কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এ দিন দুপুরের পর থেকেই রাজধানী রিয়াদে সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দিনের শুরুর দিকে রিয়াদ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সামরিক বিমানঘাঁটি ও তেল শোধনাগারে জোড়া হামলার দাবি:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার দাবির পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সৌদি সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির মতে:
খামিস মুশাইত ও নাজরান: খামিস মুশাইতের বিখ্যাত কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং নাজরান বিমানবন্দরে অবস্থানরত দুটি সৌদি সামরিক পরিবহন বিমানকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
রাস তানুরা তেল শোধনাগার: সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ ও কৌশলগত তেল শোধনাগার ‘রাস তানুরা’য় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীটি।
তবে নাজরান, খামিস মুশাইত কিংবা রাস তানুরা শোধনাগারে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি সরকারি সূত্রের বিস্তারিত বক্তব্য বা কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই ধারাবাহিক হামলায় আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এনএন/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬







