‘ক্রসফায়ারে জিরো টলারেন্স!’ আইজিপির বিতর্কিত মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর – আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বলপ্রয়োগ নাকি বিচারবহির্ভূত ক্ষমতার ব্যবহার? পুলিশের সর্বোচ্চ অভিভাবকের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গন। পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে “সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে”—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির ওই বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ও আইজিপির অবস্থান:
আইজিপির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “উনি (আইজিপি) একজন সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে অসতর্কতাবশত এমন কথা বলে ফেলেছেন। তবে এটা বলা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।”
সরকারের কঠোর নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “সরকার তো কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং ক্রসফায়ারের বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।” বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (কাস্টডিয়াল ডেথ) কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এ যাবৎকালে এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ও অস্বস্তি:
আইজিপির বক্তব্য সামনে আসার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা একটি দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুলিশপ্রধানের মুখে ‘ক্রসফায়ার’-এর কথা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং চিন্তার বিষয়। এর পাশাপাশি জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সাফাই:
দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে সোমবার সন্ধ্যায়ই একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি মূলত অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি জোর দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন; বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বেআইনি শাস্তির অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তবে সদর দপ্তরের ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক প্রশমিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই স্পষ্ট বার্তা দিতে হলো।
এনএন/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬







