টরন্টোর মেয়র পদে আবারও অলিভিয়া চাউ, কাউন্সিলর পদে জয়ী পার্থি কান্দাভেল ও আরস্কিন-স্মিথ
নজরুল মিন্টো

টরন্টোর মেয়র পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন অলিভিয়া চাউ। তাঁকে সরিয়ে সিটি হলের নেতৃত্ব নেওয়ার যে চেষ্টা করেছিলেন কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড, তা সফল হয়নি। সোমবার, ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে ভোটাররা অলিভিয়াকেই আরও চার বছরের জন্য মেয়রের দায়িত্ব দিয়েছেন। একই নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন পার্থি কান্দাভেল। অন্যদিকে বিচেস-ইস্ট ইয়র্কে নতুন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ফেডারেল সংসদ সদস্য নেট আরস্কিন-স্মিথ।
ভোটের পর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, অলিভিয়া চাউ প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ভোট। প্রায় সব ভোটকেন্দ্রের ফল গণনায় আসার পর চাউয়ের বিজয় নিশ্চিত হয়। তবে এই সংখ্যাগুলো এখনো প্রাথমিক। সিটি ক্লার্কের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নের পর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটসংখ্যা।
২০২৩ সালের জুনে উপনির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন অলিভিয়া চাউ। তৎকালীন মেয়র জন টোরির পদত্যাগের পর ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারই প্রথম পূর্ণ চার বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিলেন তিনি। টরন্টোর আবাসনসংকট, বাড়িভাড়া, গণপরিবহন, সম্পত্তিকর এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দীর্ঘ প্রচারণার পর তাঁর এই বিজয় এসেছে।
ব্র্যাডফোর্ড ২০১৮ সাল থেকে বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের কাউন্সিলর ছিলেন। মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য এবার নিজের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ২০২৩ সালের মেয়র উপনির্বাচনে তিনি অষ্টম স্থানে ছিলেন। এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এলেও অলিভিয়া চাউকে পরাজিত করতে পারেননি।
এবারের নির্বাচনে বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডেও এসেছে পরিবর্তন। ব্র্যাডফোর্ডের ছেড়ে দেওয়া আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক লিবারেল সংসদ সদস্য নেট আরস্কিন-স্মিথ। তিনি পরাজিত করেছেন সিটিভি নিউজের সাবেক সাংবাদিক নাটালি জনসনকে। তৃতীয় হয়েছেন টরন্টোর পৌর প্রশাসনে দীর্ঘদিন কাজ করা জেমস ড্যান।
স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন পার্থি কান্দাভেল। সোমবার, ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে তিনি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকৌশলী ও কমিউনিটি সংগঠক কেভিন রুপাসিংহেকে পরাজিত করেন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কান্দাভেল ১২ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে রুপাসিংহে পেয়েছেন ১০ হাজারের কিছু বেশি ভোট। ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে তাঁদের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ৭৮৭ ভোট। সেবার কান্দাভেল পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৬৪১ ভোট এবং রুপাসিংহে ৩ হাজার ৮৫৪ ভোট। এবারও দুই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে লড়াই হলেও কান্দাভেল আগের তুলনায় বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের নির্বাচনী এলাকার সংখ্যা ২২ থেকে কমিয়ে ১২ করা হয়েছে। এর ফলে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ও বিচেস-ইস্ট ইয়র্ককে একত্র করে ট্রাস্টি নির্বাচনের জন্য নতুন ১০ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। আগে দুটি এলাকায় পৃথক প্রতিনিধি থাকলেও এখন উভয় এলাকার ভোটাররা একজন ট্রাস্টি নির্বাচন করছেন। এই নতুন ওয়ার্ডে ট্রাস্টি পদে কে নির্বাচিত হয়েছেন, এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টরন্টোর এবারের নির্বাচন শুধু একজন মেয়র বা কয়েকজন কাউন্সিলর নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগামী চার বছরে নগরীর উন্নয়ন কোন পথে এগোবে, আবাসনসংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, গণপরিবহন ও জননিরাপত্তায় কতটা অর্থ ব্যয় করা হবে, এসব সিদ্ধান্তে নতুন সিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। অলিভিয়া চাউয়ের পুনর্নির্বাচনের ফলে মেয়র পদে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। অন্যদিকে বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের মতো এলাকায় নতুন কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় সিটি কাউন্সিলে নতুন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্বও যুক্ত হচ্ছে।
আগামী নভেম্বরে নতুন সিটি কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। এরপরই পরিষ্কার হবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। টরন্টোর বাসিন্দাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা পরিবর্তন আনবে।
তথ্যসূত্র: City of Toronto Election Results







