মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেল আমদানির আগুন: ৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম

তেহরান, ২৩ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বেশ অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময় বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude)-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১১৪ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগে সেশনের শুরুতে দাম বেড়ে ১১৫ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ৪ মের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
ডব্লিউটিআই ও সাপ্তাহিক বাজারচিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ ডলার ৯৫ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের টানা জয়রথ: এই নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো ব্রেন্টের দাম বাড়তে চলেছে। চলতি সপ্তাহে এর দাম সামগ্রিকভাবে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম সপ্তাহ শেষে ০ দশমিক ৫ শতাংশ কিছুটা কম থাকতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর খালি করার নির্দেশ ও সংঘাতের বিস্তার
পরিস্থিতি কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তার প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবার। বাহরাইনের কাছাকাছি উপসাগরীয় উপকূলের ধাহরানে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো তাদের নিজেদের মূল সদর দপ্তর জরুরি ভিত্তিতে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ায় এই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে একের পর এক আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
ইউবিএসের (UBS) শীর্ষস্থানীয় বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও মারাত্মক দিকে মোড় নিতে পারে—এমন আতঙ্ক বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তেল সরবরাহের এই অস্থিরতা এবং পণ্য পরিবহনের আকাশচুম্বী ব্যয়ের কারণেই মূলত বাজারে আজ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।”
এক্সএস ডটকমের (XS.com) বিশ্লেষক লিন ট্রান সতর্ক করে জানান যে, সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রকৃত বিঘ্ন কতটা ঘটছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে কত সময় লাগছে, তা এখন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তার মতে, হামলা অব্যাহত থাকলে এবং জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
এনএন/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬







