ফ্রান্সে তীব্র আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

প্যারিস, ২৩ অক্টোবর – ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল হয়ে ওঠা হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রশমিত করতে অবশেষে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সপ্তাহজুড়ে চলা উত্তেজনার পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার, শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাক্রোঁর এই উদ্যোগ রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো কী?
ফরাসি তরুণ ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন: জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
শিক্ষক নিয়োগ: শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমাতে দ্রুত ও পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদারিত্ব: শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের জোরালো ভূমিকা ও মতামত জানানোর সুযোগ।
ফ্রান্সের ছাত্র সংগঠন লাইসি অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নেত্রী ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সুমাইয়া সারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “বছরের পর বছর ধরে আমাদের কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, যার একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা এখন আর কোনো ফাঁকা বুলি শুনতে চাই না, প্রতিশ্রুতির বদলে দৃশ্যমান ও বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই।”
সহিংসতা এড়াতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ও সান্ধ্য আইন জারি
গত সপ্তাহের শেষের দিকে বিক্ষোভ অনেকাংশে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা কিছু এলাকায় সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে—এমন সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। আসন্ন শনিবারের সম্ভাব্য নতুন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফরাসি প্রশাসন আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, পরিস্থিতি কঠোরহাতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে চলাচলের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধসহ সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করা হয়েছে। এছাড়া দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম শহর মার্শেই এবং লিওঁতে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ক্রমবর্ধমান ঋণে কোণঠাসা ম্যাক্রোঁ সরকার
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে আগে থেকেই কোণঠাসা অবস্থায় থাকা ম্যাক্রোঁ সরকার বর্তমানে এক জটিল সংকটের মুখে পড়েছে। একদিকে ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের এই অভাবনীয় গণআন্দোলন—সবমিলিয়ে আন্দোলনকারীদের রাজপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার সংকট কাটাতে সরকার কার্যকর কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ইউরোপ।
এনএন/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬







