অপ্রতিম হত্যায় ৩১ দিনে চাঞ্চল্যকর চার্জশিট, অভিযুক্ত ৪ জন

কুমিল্লা, ২৩ অক্টোবর – কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় অবশেষে চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৩১ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
স্রেফ একটি আইফোনের জন্য কিলিং মিশন: ৪ ঘাতক গ্রেপ্তার, ৩ জনের স্বীকারোক্তি
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক তথ্য। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে ছবি তুলতে কোটবাড়ি এলাকায় গিয়ে নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম। নিখোঁজের পরদিন দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের নির্জন ঝোপ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
মূলত অপ্রতিমের সাথে থাকা দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক মিশনে সরাসরি অংশ নেয় চারজন। পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে চারজনকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন এবং অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সিয়াম বাদে বাকি তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
‘আমার নিষ্পাপ সন্তানকে যারা কেড়ে নিল, তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়’—বিচারপ্রার্থী পরিবার
স্বল্পতম সময়ে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পুলিশ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দিয়েছে। এবার বিচারকাজও যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। যারা আমার সহজ-সরল ছেলেটাকে এত নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আদালত যেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেন।”
দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই মর্মান্তিক ঘটনার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষেরও।
এনএন/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬







