সম্পাদকের পাতা

শেষ মুহূর্তের জরিপে টরন্টোর মেয়র নির্বাচনে অলিভিয়াকে পেছনে ফেললেন ব্র্যাডফোর্ড

নজরুল মিন্টো

ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এমন সময় টরন্টোর মেয়র নির্বাচনে একই দিনে ঘটল দুটি ঘটনা। নতুন এক জরিপে ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ডকে বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাওয়ের চেয়ে এগিয়ে যেতে দেখা গেল। আর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মেয়র প্রার্থী ওডেসা পালোমা পার্কার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাঁর সমর্থকদের অলিভিয়াকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন। ভোটের শেষ সপ্তাহে এসে এই দুই ঘটনা টরন্টোর মেয়র নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২১ অক্টোবর প্রকাশিত Liaison Strategies-এর জরিপে পছন্দের প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছেন বা কোনো প্রার্থীর দিকে ঝুঁকেছেন এমন ভোটারদের মধ্যে ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছেন ৪৯ শতাংশ এবং অলিভিয়া ৪৭ শতাংশ সমর্থন। অন্য প্রার্থীদের পক্ষে রয়েছেন ৩ শতাংশ। তবে দুই পয়েন্টের এই ব্যবধানকে নিশ্চিত নেতৃত্ব বলছে না জরিপ প্রতিষ্ঠানটি। এক হাজার টরন্টোবাসীর ওপর ১৮ ও ১৯ অক্টোবর পরিচালিত জরিপটির margin of error প্লাস-মাইনাস ৩.১ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ দুই প্রধান প্রার্থীর ব্যবধান জরিপের স্বাভাবিক অনিশ্চয়তার সীমার মধ্যেই রয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সব উত্তরদাতাকে হিসাবে ধরলে ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট। ব্র্যাডফোর্ডের সমর্থন ৪২ শতাংশ এবং অলিভিয়ার ৪১ শতাংশ। ১৪ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই দুই প্রচার শিবিরের বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন।

এই জরিপ প্রকাশের দিনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ওডেসা পালোমা পার্কার। পেশায় শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক সাংবাদিক এবং ডিজে পার্কার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে সমর্থকদের অলিভিয়া চাওকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁর অনেক সমর্থক তাঁর কর্মসূচির সঙ্গে একমত হলেও ব্র্যাডফোর্ডের সম্ভাব্য বিজয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেই আলোচনাগুলোও তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। ইতিমধ্যে আগাম ভোটে যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন পার্কার।

পার্কারের সমর্থন শেষ পর্যন্ত কত ভোট অলিভিয়ার দিকে টানতে পারবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তিনি শীর্ষস্থানীয় প্রার্থী ছিলেন না এবং তাঁর কিছু সমর্থক আগাম ভোটও দিয়ে ফেলেছেন। তারপরও অত্যন্ত কাছাকাছি নির্বাচনে একজন প্রার্থীর সরে দাঁড়িয়ে সরাসরি আরেক প্রার্থীকে সমর্থন করা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যখন সব ভোটারের হিসাবে দুই প্রধান প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট এবং ১৪ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন।

সর্বশেষ Liaison জরিপে আরেকটি পরিবর্তন নজর কাড়ছে North York-এ। আগের জরিপে সেখানে অলিভিয়া এগিয়ে থাকলেও এবার ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছেন ৫৬ শতাংশ এবং অলিভিয়া ৪২ শতাংশ। Etobicoke-তে ব্র্যাডফোর্ডের ব্যবধান আরও বড়, ৬৩ বনাম ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে Downtown-এ অলিভিয়া এগিয়ে ৫৫ বনাম ৪১ শতাংশে। Scarborough-তে ব্যবধান প্রায় নেই, অলিভিয়া ৪৯ এবং ব্র্যাডফোর্ড ৪৮ শতাংশ। তবে অঞ্চলভিত্তিক নমুনা তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এসব সংখ্যাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছে Liaison।

বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের পছন্দও দুই দিকে যাচ্ছে। বাড়ির মালিকদের মধ্যে ব্র্যাডফোর্ড ৫৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, অলিভিয়া ৪২ শতাংশ। ভাড়াটিয়াদের মধ্যে অলিভিয়া ৫৪ এবং ব্র্যাডফোর্ড ৪৪ শতাংশ। নারী ভোটারদের মধ্যে অলিভিয়ার সমর্থন ৫৬ শতাংশ, ব্র্যাডফোর্ডের ৪১। আবার পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ব্র্যাডফোর্ড ৫৮ এবং অলিভিয়া ৩৮ শতাংশে রয়েছেন।

তবে নতুন জরিপের সম্ভবত সবচেয়ে নজরকাড়া তথ্য তরুণ ভোটারদের নিয়ে। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে অলিভিয়া ও ব্র্যাডফোর্ড দুজনই ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আগের জরিপগুলোয় তরুণ ভোটারদের মধ্যে অলিভিয়ার অবস্থান তুলনামূলক শক্ত ছিল। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের মধ্যে ব্র্যাডফোর্ড এখনও এগিয়ে আছেন।

এখানেই শেষ মুহূর্তের প্রচারের গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ব্র্যাডফোর্ডের জন্য এখন বড় সুযোগ হলো বাড়ির মালিক, পুরুষ ও বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ধরে রেখে North York ও Etobicoke-তে যত বেশি সম্ভব ভোট নিশ্চিত করা। অলিভিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো নারী, ভাড়াটিয়া ও Downtown-এর সমর্থনের পাশাপাশি তরুণ এবং সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের একটি বড় অংশকে নিজের দিকে রাখা।

দুই পক্ষের প্রচারকৌশলের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। তাঁরা এখন শুধু নিজেদের পরিকল্পনার কথা বলছেন না, প্রতিপক্ষের অতীত রেকর্ড নিয়েও ভোটারদের প্রশ্ন করতে বলছেন। অলিভিয়া ব্র্যাডফোর্ডের কাউন্সিলর হিসেবে কাজের হিসাব সামনে আনছেন। ব্র্যাডফোর্ড বর্তমান মেয়রের মেয়াদকালে যানজট, কর, জননিরাপত্তা ও সিটি হল পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছেন।

এদিকে অলিভিয়া শেষ সময়ে নতুন রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছেন। Ontario NDP নেতা Marit Stiles এবং সাবেক Ontario Liberal premier Kathleen Wynne তাঁর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এখন ওডেসা পালোমা পার্কারও নির্বাচন থেকে সরে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন।

সবকিছু মিলিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন সেই ভোটাররা, যাঁরা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁদের পছন্দ কোন দিকে যায় এবং দুই শিবির কতটা সফলভাবে নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারে, সেটিই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।

২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ কথা এবার জরিপ নয়, বলবেন টরন্টোর ভোটাররাই।

তথ্যসূত্র: Liaison Strategies; TorontoToday; Global News; CityNews Toronto

Back to top button
🌐 Read in Your Language