জাতীয়

পূর্বাচলে ডিআইজি জহিরের বিলাসবহুল বাড়িতে ডিবির অভিযান: ডিজে পার্টি থেকে মদ ও সিনথেটিক মাদকসহ আটক ৮৫ জন

ঢাকা, ২০ অক্টোবর – রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়মিত ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে ওই বাড়ি থেকে ২৬ জন নারী ও ৫৯ জন পুরুষসহ মোট ৮৫ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। হাইপ্রোফাইল এই ঘটনার পরপরই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

পূর্বাচলের ‘পার্টি হাউস’ ও ডিবির অভিযান

ডিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে পূর্বাচলে অবস্থিত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে ডিবির একটি দল।

অনলাইনভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও ডিজে পার্টি: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির আসর বসত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব পার্টিতে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন লোকজনদের আমন্ত্রণ জানানো হতো।

বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ: রাতভর চলা ওই অভিযানে বাড়িটি তল্লাশি করে ৫ বোতল বিদেশি মদ এবং বিপুল পরিমাণ সিনথেটিক মাদক উদ্ধার করা হয়।

মালিকানার দায়: ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ভবনটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের নিজস্ব হলেও তিনি এটি ভাড়া দিয়েছিলেন। ভাড়াটিয়ারা সেখানে ডিজে পার্টির আড়ালের আড়ালে মাদকের আসর জমাতেন।

পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় ও তাৎক্ষণিক বদলি

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী আটকের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নড়েচড়ে বসে পুলিশ সদর দপ্তর। মঙ্গলবারই আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পূর্বের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সরাসরি সদর দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয় এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে জব্দ করা সিনথেটিক মাদকের সঠিক ধরন ও রাসায়নিক প্রকৃতি এবং এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language