নাটোর

নাটোর-পাবনা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাক সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৯ জনের, আহত অন্তত ৩০

নাটোর, ২০ অক্টোবর – এক নিস্তব্ধ ভোরে মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ আর গন্তব্যের তাগিদ ধুলোয় মিশে গেল রক্ত আর চিৎকারে। নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

যেভাবে ঘটল সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ‘আরপি পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ভোরে বড়াইগ্রামের সরকারপাড়া এলাকা অতিক্রম করছিল। ঠিক সে সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘাত হয়। বিকট শব্দে থমকে যায় চারপাশ।

সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাসহ মোট ৯ জনের করুণ মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে চালক ও হেলপারসহ বাকি সবাই পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।

উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ ও নাটোর সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। উদ্ধার করা আহত ও নিহতদের দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাটোর সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ দুর্ঘটনার খবর ও প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে উদ্ধারকাজ শেষে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবসৃষ্ট ভুল নাকি মহাসড়কের ফাঁদ?

ভোরের দিকে মহাসড়কে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা আমাদের সড়ক নিরাপত্তার চরম ভঙ্গুরতাকেই আবার সামনে এনে দাঁড় করাল।

চালকদের ক্লান্তি ও বেপরোয়া গতি: দূরপাল্লার রাতে বা ভোরে চালানো গাড়ির চালকদের ঘুমঘুম ভাব কিংবা অতিরিক্ত গতির অশুভ প্রতিযোগিতা প্রায়ই এমন অমূল্য জীবন কেড়ে নেয়।

মহাসড়কে বালু ও ভারী যানবাহন ব্যবস্থাপনা: ভোররাতে ভারী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাসের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তদারকির তীব্র অভাব লক্ষ্য করা যায়।

জরুরি পদক্ষেপের দাবি: এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে দায়ী চালক বা গাড়ির ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে মহাসড়কে এই রক্তের মিছিল থামানো সম্ভব নয়।

ভোরের নরম আলো ফোটার আগেই একটি খবরে স্বজনদের পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রতি রইল গভীর সমবেদনা।

এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language