জাতীয়

ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নাহিদ ইসলামের বিশেষ বার্তা

ঢাকা, ১০ অক্টোবর – ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি শক্ত সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই সংহতি প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে আন্দোলন দমন, মুক্তিকামী তরুণ ও গণতান্ত্রিক নেতাদের গ্রেফতার এবং দমনপীড়ন চালানো মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি চরম আঘাত।

জুলাই ২৪’-এর স্মৃতিচারণ ও ভারতের আন্দোলনের প্রতি সম্মান

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যেভাবে কোটা সংস্কার ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ওপর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী নির্বিচার দমনপীড়ন চালিয়েছিল, ঠিক একই ধরনের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মুখোমুখি আজ ভারতের তরুণরা:

অভিন্ন সংগ্রামের চেতনা: “এই লড়াই আপনাদের একার নয়, ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও মুক্তিকামী মানুষ যে সংহতি দেখিয়েছিলেন, আজ আমরা তা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।”

নারীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা: শাহীনবাগ, জেএনইউ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের তরুণী ও নারীরা যে সম্মুখসারিতে উঠে এসেছেন, তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সাম্প্রদায়িকতা, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুংকার

এনসিপি আহ্বায়ক কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ কোনো ধর্মীয় আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না। “যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ মনে করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সেই সমাজ কখনোই গণতান্ত্রিক সমাজ হতে পারে না। শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের মতো তরুণ নেতৃত্বের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা বিনাবিচারের নিপীড়ন এবং আজ আটক হওয়া হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে।”

দক্ষিণ এশিয়ায় সমান মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের বার্তা

সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম ভারতের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন—“বাংলাদেশের ‘জুলাই প্রজন্ম’ আপনাদের পাশে রয়েছে। নিজেদের রক্ষা করুন, ধর্মীয় ও সামাজিক বিদ্বেষকে প্রত্যাখ্যান করুন এবং দক্ষিণ এশিয়াকে আধুনিক গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করুন।”

এনএন/ ১০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language