প্রশ্নফাঁসে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি: যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় এনসিপির ক্ষোভ

ঢাকা, ১০ অক্টোবর – মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নিতে মুখিয়ে ছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। অথচ পরীক্ষা শুরুর ঠিক শেষ মুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা। কর্তৃপক্ষের এই চরম অব্যবস্থাপনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র ক্ষোভ ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে স্থগিতের খবর, লাখো তরুণের স্বপ্নভঙ্গ
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার আগের রাত থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুঞ্জন ও খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ঋণ করে ও পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে ঢাকায় এসে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত পান।
এনসিপি তাদের বার্তায় উল্লেখ করে:
কর্মসংস্থান সংকটের চিত্র: প্রতি ১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন গড়ে ১,৩২০ জন প্রার্থী। এটি কেবল কোনো পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের তীব্র বেকারত্ব ও সরকারি চাকরির জন্য তরুণদের আকুলতার প্রতিচ্ছবি।
প্রশ্নবিদ্ধ সময়জ্ঞান: প্রশ্ন ফাঁসের খবর রাতে ছড়ানো সত্ত্বেও কেন প্রার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হলো—তার স্পষ্ট জবাব দাবি করেছে দলটি।
এনসিপির চার দফা সুনির্দিষ্ট দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি স্পষ্ট জানিয়েছে, কেবল পরীক্ষা স্থগিত করে সংকট এড়ানো সম্ভব নয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি তরুণদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে:
স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি: প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল এবং কার যোগসাজশ ছিল, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা উন্মোচন করে দায়ীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
ক্ষতিপূরণের বিবেচনা: যেসকল পরীক্ষার্থী দেশের দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত ও আবাসনসহ বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।
১৬ অক্টোবরের পরীক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা: আগামী ১৬ অক্টোবরের পুনর্নির্বাচিত পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রশ্ন প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধব্যবস্থা: ভবিষ্যতে যাতে কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা না ঘটে, তার জন্য স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
“লাখো চাকরিপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও মেধার মূল্যায়ন হতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।” — এনসিপি
এনএন/ ১০ অক্টোবর ২০২৬







