আইন-আদালত

ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রসিকিউশনের আপিল

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল
হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

ঢাকা, ০৫ অক্টোবর- জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে একাধিক অভিযোগে সাজা দেওয়া হলেও সেগুলো একসঙ্গে চলার নির্দেশ থাকায় মোট কার্যকর সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করে এবার উচ্চ আদালতে গেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। তাদের আবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইনুর সাজা বাড়িয়ে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় প্রমাণিত অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রার তুলনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড যথেষ্ট নয়। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৩০ জুন ২০২৬ ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে তিনটিতে ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই তিন অভিযোগে পৃথক সাজা দেওয়া হলেও সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কারণে তাকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

প্রসিকিউশনের দাবি, মামলায় প্রমাণিত অপরাধের গুরুতরতা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা পর্যাপ্ত নয়। সেই কারণেই রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে।

৫ অক্টোবরের আপিলের মধ্য দিয়ে এখন ট্রাইব্যুনালের সাজা পুনর্বিবেচনার বিষয়টি উচ্চ আদালতের সামনে গেল। তবে আপিল করা মানেই ইনুর সাজা মৃত্যুদণ্ডে পরিবর্তিত হয়ে গেছে—এমন নয়; এটি প্রসিকিউশনের চাওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি।

এখন আপিলটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। আপিলের পর আদালত সংশ্লিষ্ট নথি, ট্রাইব্যুনালের রায় এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করবে।

অর্থাৎ, ৫ অক্টোবরের এই আপিলের পর ইনুর সাজা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে, আর সেই আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না—তা পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

এস এম/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬




FAQ

১. হাসানুল হক ইনুর সাজা কত ছিল?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। একাধিক সাজা একসঙ্গে চলার কারণে কার্যকর সাজা ১০ বছর।

২. ইনুর মৃত্যুদণ্ড কি হয়ে গেছে?

না। মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় হয়নি। প্রসিকিউশন ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।

৩. কবে প্রসিকিউশন আপিল করেছে?

৫ অক্টোবর ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়েছে।

৪. ইনুর বিরুদ্ধে কোন মামলায় এই আপিল?

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজাকে চ্যালেঞ্জ করে এই আপিল করা হয়েছে।

৫. প্রসিকিউশন কেন সাজা বাড়াতে চাইছে?

প্রসিকিউশনের দাবি, মামলায় প্রমাণিত অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রার তুলনায় ১০ বছরের সাজা যথেষ্ট নয়। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

৬. এখন কী হবে?

আপিলটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language