জাতীয়

ফেনীতে দেশের প্রথম রুফটপ সোলার প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফেনী, ০১ অক্টোবর – সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ফাঁকা ছাদকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সোলার প্রকল্প থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের সফল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেনীর ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ থেকে সুইচ টিপে তিন উপজেলার বিশাল এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।

নেট মিটারিং প্রযুক্তি: সরকারি চাহিদার পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া— এই তিন উপজেলাজুড়ে বাস্তবায়িত দেশের প্রথম এই মডেল প্রকল্পে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট (প্রায় ০.৯৬ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে নেট মিটারিং?

এই আধুনিক সোলার ব্যবস্থার ফলে দিনের বেলা সরকারি ভবনগুলো প্রথমে নিজেদের চাহিদা মতো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে, যা এলাকার সার্বিক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে।

তিন উপজেলার ২৬টি সরকারি ভবনে বসছে সৌর প্যানেল

প্রকল্পটির অধীনে তিন উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পর্যন্ত মোট ২৬টি সরকারি স্থাপনার ছাদকে পাওয়ার প্ল্যান্টে রূপান্তর করা হয়েছে:

ছাগলনাইয়া উপজেলা (৪১৫ কিলোওয়াট): উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো ও ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট ১২টি সরকারি স্থাপনার ছাদ কাজে লাগানো হয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা (২৯৮.৫ কিলোওয়াট): উপজেলা পরিষদ, মিলনায়তন (অডিটোরিয়াম), তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ ৬টি ভবনের ছাদ যুক্ত হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলা (২৪৯ কিলোওয়াট): উপজেলা পরিষদ ভবন, ডাকবাংলো ও ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ ৮টি স্থানে বসানো হয়েছে শক্তিশালী সোলার প্যানেল। (ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ২৫ কিলোওয়াট ও উপজেলা পরিষদ ভবনে ১০৩ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেম)।

ব্যয় ও বাস্তবায়নের চিত্র

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানান, তিন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সবুজ শক্তি বা গ্রিন এনার্জি প্রসারে এটি একটি মডেল উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর: একই দিনে একচ্ছত্র উন্নয়ন কর্মকাণ্ড

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সারাদিন ফেনী অঞ্চলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান:

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প: দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরামে ঐতিহাসিক ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প’-এর শুভ উদ্বোধন করেন।

পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক সেবা: উদ্বোধনের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। পরবর্তীতে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানীব ভাতা প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

জ্বালানি সংকট ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই মডেলটি সারা দেশের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সরকারের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিফলন।

এনএন/ ০১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language