জাতীয়

রেকর্ড গড়ে দেশে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা! সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বড় উপহার

ঢাকা, ০১ অক্টোবর – দেশের অর্থনীতিতে বইছে স্বস্তির বাতাস! সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)। ডলার সংকটের এই সময়ে প্রবাসীদের এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তৈরি করেছে এক নতুন উদ্দীপনা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানের আলোয়: সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সের গ্রাফ কেমন ছিল?

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসীদের পাঠানোর অর্থের পরিমাণ এক ঊর্ধ্বমুখী রেখা স্পর্শ করেছে:

  • সেপ্টেম্বরের চিত্র: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।
  • বছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধি: আগের অর্থবছরের (২০২৫-২৬) সেপ্টেম্বর মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩ শতাংশ।
  • প্রথম তিন মাসের মোট অর্জন: চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২৮৬ কোটি ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।
  • ত্রৈমাসিক লাফ: গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বেড়েছে ১৩.৩ শতাংশ।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত অর্থবছরের ইতিহাস!

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে উঠে এসেছে আরও এক বড় মাইলফলক। গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার।

তার আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭.৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এক একক অর্থবছরে এত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসার নজির আর নেই!

কেন বাড়ছে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স?

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আসার পেছনে বেশ কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে:

১. হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি: অবৈধ হুন্ডি বন্ধে প্রশাসনিক তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

২. প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সুবিধা: বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকার ও ব্যাংকগুলোর দেওয়া বিশেষ প্রণোদনা প্রবাসীদের উৎসাহিত করেছে।

৩. সহজ ও দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থা: ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হওয়ায় সাধারণ প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং মাধ্যমকেই বেছে নিচ্ছেন।

“বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি ব্যয় মেটাতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমান রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি মজবুত করছে।”

প্রবাসীদের এই রক্তঘাম করা উপার্জনের মাধ্যমেই আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। হুন্ডিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার এই ধারাবাহিকতা যদি বজায় রাখা যায়, তবে আসন্ন দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কোনো চাপই আর বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশ গড়ার এই কারিগরদের প্রতি সালাম!

এনএন/ ০১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language