জাতীয়

ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পর পর দুটি বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই চুরির ঘটনা ও রাজনৈতিক বহিষ্কারের ইতিহাস প্রকাশ্যে আনেন।

রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে চরম আলোচনা-সমালোচনা। দাবির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে তিনি কমেন্ট বক্সে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো বহিষ্কারাদেশের অফিসিয়াল নোটিশের ছবিও সংযুক্ত করেছেন।

চুরির ইতিহাস ও ছাত্র ফেডারেশনের তদন্ত কমিটি

রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যখন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংগঠনটির তৎকালীন কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চুরির অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। পরবর্তীতে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে এবং চুরির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নাসীরুদ্দীনকে ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের সবার কাছেই এই ল্যাপটপ চুরির ঘটনাটি স্পষ্ট জানা ছিল।”— দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

চুরির পর রাজনীতি থেকে বিরতি ও এবি পার্টিতে যোগদান

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, চুরির দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর রাজনৈতিক মাঠে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন নাসীরুদ্দীন। পরবর্তীতে তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টিতে (এবি পার্টি) যোগ দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরেন।

রাশেদ খাঁন সংশয় প্রকাশ করে বলেন, এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা হয়তো নাসীরুদ্দীনের অতীতে ছাত্ররাজনীতিতে ল্যাপটপ চুরির কেলেঙ্কারির বিষয়টি জানতেন না; জানলে তাকে দলে নেওয়ার ভুল করতেন না।

“ল্যাপটপ চোর থেকে ছাগলচোর” — রাশেদ খাঁনের কড়া কটাক্ষ

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন লেখেন, “গণঅভ্যুত্থানের কারণে ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ল্যাপটপ চোর থেকে ছাগলচোরে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে যার হাতেখড়ি ল্যাপটপ চুরি দিয়ে আর জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরি দিয়ে, সে কীভাবে এত ন্যায়নীতির কথা বলে?”

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই গুরুতর অভিযোগ এবং পুরোনো বহিষ্কারাদেশের নোটিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান শীর্ষ পদের নেতার নৈতিকতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এনসিপির সমর্থকেরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ হিসেবে দাবি করছেন।

এনএন/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language