জাতীয়

সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে আইনানুগ শাস্তির কথা বললেন সাহেদ আলম

সাহেদ আলম
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর- সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম বলেছেন, তিনি সালমান মুক্তাদিরের অভিমানকে ছোট করছেন না। তবে সরকারি দলের যে অপূরণীয় রাজনৈতিক ড্যামেজ তিনি করেছেন, সে কারণে তাঁর আইনানুগ শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ একটি জায়গা দখল করে বানানো। সেখানে ৮ কাঠা জমি নিয়ে বিবাদ আছে। এর পরে ৩টি নতুন গেট বসানো হয়েছে, যেটা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বহুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে।

সেখানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিল্ডিং বা স্থাপনা বানানো হয়েছে। কিন্তু নতুন সরকারের সময়ে আগের রাজনৈতিক প্রভাব আর কাজ করছে না। জমির মালিকরা বা প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন না। তারা একটা জোরে ঝাঁকুনি দিতে চেয়েছেন।

মধ্যরাতে এক-দেড় শ মানুষ গুলি-ভাঙচুর করে স্থাপনার ভেতরে যা পেয়েছে, ভেঙে ফেলেছে। এতে কাজ হয়েছে। প্রপার্টির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্তও হবে। কিন্তু এর মধ্যে সর্বনাশ হয়ে গেছে।’

সাহেদ আলম লেখেন, দেশের এক বিখ্যাত ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সারের স্টুডিও সেখানে ছিল। সম্ভবত প্রপার্টির বৈধতা ধরে রাখতে তিনি বিনা মূল্যে শক্ত খুঁটিওয়ালা ওই ইউটিউবারকে জায়গা দিয়েছিলেন। ভাঙচুরের পর ইউটিউবার হাসতে হাসতে লাইভে এসে বলেন, চাঁদা না পেয়ে বিএনপি এটি ভাঙচুর করেছে। এই দেশ ভালো না, এখানে কিছু করো না তোমরা।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি তার অভিমানকে ছোট করছি না। তবে তিনি যে অপূরণীয় রাজনৈতিক ড্যামেজ করেছেন সরকারি দলকে, সে জন্য তার আইনানুগ শাস্তি দেওয়ার পক্ষে আমি। তদন্ত হোক। আসলে বিএনপির কেউ জড়িত কি না। নাম-চেহারা সামনে আসুক। যারা সন্ত্রাসী, তাদের শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। একই সঙ্গে ইউটিউবারকেও—অবৈধ সম্পত্তি দখলে সহযোগিতার জন্য। আর একটি রাজনৈতিক দলকে চাঁদাবাজের তকমা দেওয়ার জন্য অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করা হোক।’

এই সাংবাদিক লেখেন, ‘১০০ বিলিয়ন ডলার না হোক, তার নিজের ও শ্বশুরের সম্পত্তি দিয়ে যেটুকু ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, সেটা দিয়ে আমরা আবার বিএনপির ইমেজ উদ্ধারে কাজ করব যে না, বিএনপি চাঁদাবাজের দল নয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সাধারণত আমি লিখি না। এড়িয়ে চলি। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ও বেহায়া মনে হয় নিজেকে। লিখলাম কারণ, চাঁদাবাজের ন্যারেটিভ ক্ষত এখনো টাটকা। মনে আছে, নির্বাচনের আগে যখন বিএনপি ‘চাঁদাবাজের দল’ বলে যেই মহীরুহ ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়েছিল, সেটার বিপরীতে জয় তুলে আনতে আমরা কয়েকজন প্রতিপক্ষকে ‘মববাজের দল’ বলে কালেক্টিভ প্রচারণা চালিয়েছিলাম। মানুষ ‘চাঁদাবাজ ভার্সাস মববাজ’-এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ভোট দিয়েছে যাদের, তাদের এসব ন্যারেটিভ বা নিউমিডিয়ার বয়ানযুদ্ধ নিয়ে তখনও কোনো ভাবনা ছিল না।’

এস এম/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language