জাতীয়

মিরপুরে ৫০ বছরের পুরনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব ও লুটপাট! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন ডা. তাসনিম জারার

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় অর্ধশতক ধরে সেবাদানকারী ঐতিহ্যবাহী ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিত্ব ডা. তাসনিম জারা। তছনছ হয়ে যাওয়া ভবনটি পরিদর্শন করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি খোলা আকাশের নিচে চরম ভোগান্তির মধ্যেও শিশুদের টিকাদান সচল রাখা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

“ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাঙচুর চলল, পুলিশ কোথায় ছিল?”

পরিদর্শন শেষে ডা. তাসনিম জারা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। পুলিশকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও কেন তারা তা ঠেকাত এগিয়ে এল না? এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর ভরসা রাখবে?

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. জারা আরও যোগ করেন, “এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশজুড়ে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের নানা অভিযোগ উঠে আসছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দিকেও নির্দেশ করছে। ক্ষমতার পালাবদলে কেন স্থানীয় পর্যায়ে দখলের এমন মারাত্মক প্রবণতা তৈরি হলো, তা সরকারের খতিয়ে দেখা জরুরি।”

খোলামাঠে টিকাদান: সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাজনক ঝুঁকি!

ভাঙচুরের সময় কেন্দ্রটির শিশুদের টিকাদানের মূল রেজিস্টার খাতা, দুটি অফিশিয়াল ট্যাব ও অফিসের যোগাযোগের ফোন সেট লুট হয়ে গেছে। ফলে শিশুদের পরবর্তী টিকার সময়সূচি জানানো এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ডা. তাসনিম জারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন—

রেজিস্টার নিখোঁজ: রেজিস্টার খাতা ও ফোন না থাকায় কোনো বাবা-মা যদি টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলেন, তবে শিশুর পূর্বের টিকার রেকর্ড পাওয়া অসম্ভব হবে। এতে নিয়মিত টিকাদান বন্ধ হয়ে ভবিষ্যতে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রোদের মধ্যে কষ্টকর টিকাদান: আগে শিশুরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা ছায়াযুক্ত রুমে স্বস্তিতে টিকা পেলেও এখন খোলা রোদের মধ্যে দীর্ঘ ভিড় ঠেলে টিকা নিতে হচ্ছে। ভিড়ের তীব্রতায় অনেক মা বাধ্য হয়ে শিশু নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

বন্ধ মাতৃস্বাস্থ্য সেবা: প্রসূতি মা ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং সেবা বর্তমানে পুরোপুরি স্তব্ধ।

ব্যবহারযোগ্য ঘরগুলো দ্রুত খোলার আকুল আহ্বান

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ভবন ঘুরে ডা. তাসনিম জারা জানান, ভবনের কিছু ঘর এখনো ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে। প্রশাসন যদি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সেই কক্ষগুলো খুলে দেয়, তবে অন্তত প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবাগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব টয়লেট বা খাবারের সুযোগহীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে সেবা দিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ দ্রুত সচল করার দাবি জানান তিনি।

এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language