চার দিনে ৩০ কর্মসূচি: নিউ ইয়র্কে তারেক রহমানের কূটনৈতিক চমক, বিশ্বমঞ্চে বড় সাফল্য

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর – জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে চার দিনের এক স্মরণীয় ও ঝোড়ো সফর সম্পন্ন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কের অত্যন্ত টাইট শিডিউলে বিশ্বমঞ্চে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রেস মুখপাত্র মাহদী আমিন এই সফল সফরের পূর্ণাঙ্গ অর্জনের কথা তুলে ধরেন।
ওয়াল স্ট্রিটের মেগা ইনভেস্টমেন্ট থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফরের প্রধান লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সফরের প্রধান মাইলফলকসমূহ:
ওয়াল স্ট্রিটে বড় বিনিয়োগের আহ্বান: প্রখ্যাত মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘জেপি মরগান চেজ’ আয়োজিত এক বিশেষ প্রাতরাশ বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি বসে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের রোডম্যাপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের ট্রিপল কূটনীতি: কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক মেগা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তেল-খনিজ খাতে ব্যাপক যৌথ বিনিয়োগের সমঝোতা হয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সার্বিক মানবাধিকারের আমূল পরিবর্তনের প্রশংসা করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট ও গ্লোবাল হেলথ ইস্যু: ডা. জুবাইদা রহমানের প্রশংসা
জাতিসংঘের মূল সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসন’ এবং ‘মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য’ বিষয়ক দুটি আন্তর্জাতিক সামিট বিশ্বনেতাদের কাছে বিশেষ নজর কেড়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সফরে ৮টি বিশেষ ইভেন্টে যোগ দিয়ে ৪টিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ‘প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’ ও ‘ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ’-এ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং নারী ক্ষমতায়নে তাঁর সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়।
“জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বড় জয়”
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বিশ্বমঞ্চে মোট ৮০টির মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংযোগে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারের প্রধান হিসেবে মাথা উঁচু করে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। একটি ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের শতভাগ সঠিক ব্যবহার করে প্রতিটি পদক্ষেপে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







