সিরিয়ার ভূখণ্ড না দিয়ে নিউ জার্সি লিখে দিন ইসরায়েলকে: ট্রাম্পকে করা কৌতুক ফাঁস করলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি এক মারাত্মক ধারালো রাজনৈতিক ট্রোল করেছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা! ইসরায়েলকে সিরিয়ার কৌশলগত ভূখণ্ড গোলান মালভূমি লিখে দেওয়ার আমেরিকান সিদ্ধান্তের জবাবে ট্রাম্পকে এই মোক্ষম কথাটি বলেছিলেন তিনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক বিশেষ গোলটেবিল আলোচনায় সেই রসাত্মক ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন আল-শারা।
গোলান আপনার জমি নয়, পারলে ডেমোক্র্যাটদের রাজ্য দিয়ে দিন!
সিরীয় প্রেসিডেন্ট আল-শারা জানান, হোয়াইট হাউস সফরের সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইসরায়েলের অনুকূলে গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির বিষয়টি তোলেন, ঠিক তখনই ট্রাম্পকে রসিকতার ছলে বড় এক শিক্ষা দেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আল-শারা বলেন, “আমি ট্রাম্পকে সরাসরি বলেছিলাম—ইসরায়েলকে জমি দেওয়ার জন্য আপনার যদি এতই আগ্রহ থাকে, তবে নিজ দেশের ‘নিউ জার্সি’ রাজ্যটি তাদের লিখে দিচ্ছেন না কেন? নিউ জার্সি তো ডেমোক্র্যাটদের অধীনে, আর সেখানকার বাসিন্দারা তো আপনাকে ভোটও দেয় না!”
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তি দিয়ে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার ‘নিউ জার্সি’ অঙ্গরাজ্যের ওপর রাজনৈতিক এখতিয়ার থাকতে পারে, কিন্তু সিরিয়ার অখণ্ড ভূখণ্ড গোলান মালভূমির মালিক তিনি নন। সিরিয়া বা আমেরিকা—কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অধিকার নেই নিজ স্বার্থে অন্য দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড অন্য কাউকে দান করার; গোলান মালভূমির মালিক কেবল সিরিয়ার জনগণ।
কৌতুকের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রশংসা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
অবশ্য কৌতুক ও মতপার্থক্য সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আহমেদ আল-শারা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কঠিন সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশটির ওপর থেকে কয়েক দশকের পুরোনো কঠোর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এক অত্যন্ত বিশেষ ও গভীর শ্রদ্ধাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গোলান মালভূমির ইতিহাস ও বৈশ্বিক অবস্থান:
ইসরায়েলি বেআইনি দখল: ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে সিরিয়ার ভূখণ্ড গোলান মালভূমি দখল করে রেখেছে ইসরায়েল এবং ১৯৮১ সালে তারা এটি নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়।
জাতিসংঘের প্রস্তাব: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি: বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ গোলানকে সিরিয়ার অখণ্ড ভূখণ্ড মনে করলেও একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া এই অঞ্চলে ইসরায়েলি কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়।
এনএন/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







