যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে ভারত মহাসাগরেও: যুক্তরাষ্ট্রকে খামেনির উপদেষ্টার অভূতপূর্ব কড়া হুঁশিয়ারি!

তেহরান, ২৪ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সংঘাত এবার বিশ্ব বাণিজ্যের মূল ধমনী ভারত মহাসাগরে ছড়াতে পারে! যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে আবার হামলা চালায়, তবে চলমান যুদ্ধের মাত্রা আর শুধু পারস্য উপসাগর বা লোহিত সাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা সরাসরি ছড়িয়ে দেওয়া হবে ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের **ভারত মহাসাগরেও**।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ফার্স’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও আইআরজিসির সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি এই কঠোর হুংকার দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি প্রশাসনের তরফ থেকে এই প্রথমবার সরাসরি ‘ভারত মহাসাগরকে’ যুদ্ধক্ষেত্রের আওতায় আনার স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হলো।
রহিম সাফাভি সতর্ক করে বলেন, “সংঘাত ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুদ্ধের পরিসর আরও বাড়বে—এমনকি ভারত মহাসাগর ও তার বাইরেও তা আঘাত হানবে।”
আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে এই হুমকি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। কারণ ইরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ (Diego Garcia) দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে গড়ে তুলেছে তাদের অন্যতম শক্তিশালী নৌ ও বিমান সামরিক ঘাঁটি।
আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের দখল ও কূটনীতির টানাপোড়েন:
লোহিত সাগরে হুথিদের আধিপত্য: ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে। এর ফলে এশিয়া থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপগামী অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’-তে হুথিদের অবস্থান আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়েছে।
হরমুজের প্রাণঘাতী অবরোধ: ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে বিশ্বের সিংহভাগ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বর্তমানে এই প্রণালির পূর্ণ আধিপত্য নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্নায়যুদ্ধ তুঙ্গে।
জাতিসংঘের মঞ্চে পর্দার আড়ালের বৈঠক: চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইরান স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে—দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকে থাকা সব সম্পদ অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে ফেরত দিতে হবে।
আমেরিকান সামরিক নীতি কোন পথে হাঁটে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন এশীয় মহাসমুদ্রে আছড়ে পড়ে কি না—তা নিয়ে এখন সর্বোচ্চ উদ্বেগে বিশ্ব পরিমণ্ডল।
এনএন/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







