ভিসা না পেলেও ভিডিওতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

গাজা,২০ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পেলেও আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টমাহমুদ আব্বাস। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ভিডিওতে জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ১৫২টি দেশ ভোট দিয়েছে, বিপক্ষে ভোট পড়েছে তিনটি। আর চারটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, মাহমুদ আব্বাস ছাড়াও কোনো উচ্চপর্যায়ের ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারলে আগামী এক বছর জাতিসংঘের সভা বা সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিতে পারবেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনির ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই তালিকায় ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তারাও ছিলেন। বুধবার ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হয়েছে।
ভোটের আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তাদের ‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন’ বন্ধ করতে হবে এবং ‘গুরুতর শাসনের বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিক নাটক’ বন্ধ করতে হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মানসুর সাধারণ পরিষদে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানায়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, মাহমুদ আব্বাসের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, সাধারণভাবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে নিরাপত্তা, উগ্রবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির কারণ দেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এস এম/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
মাহমুদ আব্বাস কি ২০২৬ সালে জাতিসংঘে সশরীরে যাবেন?
না। মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি নিউইয়র্কে সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না। পরিবর্তে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেন মাহমুদ আব্বাসের মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে?
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েল-সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ এবং সংঘাতকে আন্তর্জাতিকীকরণের মতো কর্মকাণ্ডের কথা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘের প্রস্তাবটি কত ভোটে পাস হয়েছে?
প্রস্তাবের পক্ষে ১৫২টি, বিপক্ষে ৩টি ভোট পড়ে। চারটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
আব্বাস কি গত বছরও ভিডিওতে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছিলেন?
হ্যাঁ। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত একই ধরনের বাধার পর ২০২৫ সালেও তিনি ভিডিওর মাধ্যমে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
নতুন ব্যবস্থাটি কতদিন কার্যকর থাকবে?
সাধারণ পরিষদের অনুমোদিত ব্যবস্থাটি আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না-পারা উচ্চপর্যায়ের ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের জাতিসংঘের সভা বা সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে।







