কোনো নেতার আহ্বানেই আর সাড়া দিচ্ছে না জাতি: জামায়াত-এনসিপিকে বার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁনের পোস্ট

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর – ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুরমুখী লংমার্চ ও বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক কঠোর স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম—কোনো নেতার আহ্বানেই দেশের জনগণ আর সাড়া দিচ্ছে না।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁনের মূল বক্তব্যসমূহ:
দাবি পরিবর্তন ও নেতৃত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: জামায়াত আমিরের ঘনঘন অবস্থান বদলের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, আগের লংমার্চে জামায়াত আমির ৬ দফাকে ১ দফায় রূপ দেওয়ার কথা বললেও, রংপুরমুখী লংমার্চে এসে ৮ দফাকে ১ দফায় রূপ দেওয়ার কথা বলছেন। জনগণ কখনোই জানতে পারেনি তাদের প্রয়োজনে কখন ৬ দফা বাড়িয়ে ৮ দফা করা হলো। তিনি মন্তব্য করেন—যে নেতা সুনির্দিষ্ট দাবিই স্থির করতে পারেন না, তিনি কেবল ‘জামায়াতি জাতির’ নেতা হতে পারেন, পুরো দেশের নেতা হতে পারেন না।
এনসিপির কর্মসূচিতে জনখরা: ছুটির দিনে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত সাম্প্রতিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে নেতাকর্মীদের চেয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতই বেশি চোখে পড়েছে। এনসিপিকে তিনি পরামর্শ দেন, জনগণ কেন তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না—তা অনুসন্ধান করে দেখার জন্য।
রাজনৈতিক অবস্থান বদল ও জনবিচ্ছিন্নতা: অতীতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রাশেদ খাঁন মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে নাহিদ স্পষ্ট বলেছিলেন জনগণ কখনো জামায়াতের নেতৃত্ব মেনে নেবে না। তবে পরবর্তী সময়ে নাহিদ নিজেই জামায়াত আমিরের নেতৃত্ব মেনে নেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, এনসিপি আহ্বায়কের এই অবস্থান বদলের পর থেকেই দেশের সাধারণ জনগণ দুই নেতার কারো আহ্বানেই আর আস্থা রাখছে না।
রাজনৈতিক পটভূমি:
১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্যের পর পর দুটি লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের রাজপথের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী জোট যখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে গতি আনার চেষ্টা করছে, তখন সরকারপক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধির এই ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
এনএন/ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







