দক্ষিণ এশিয়া

ভারতীয় নারীকে ‘বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক’-এর অভিযোগ: কেন্দ্রীয় সরকার ও মহারাষ্ট্রকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

নয়াদিল্লি, ১৮ সেপ্টেম্বর – পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা শাহিদা নামের এক ভারতীয় নারীকে সঠিক প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করে বাংলাদেশে ‘ঠেলে পাঠানোর’ (Push-back) অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও মহারাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। শাহিদার ছেলে শাহিন ফকিরের দায়ের করা পিটিশনে ২০২৫ সালের মে মাসের বিতর্কিত ‘এসওপি (SOP)’ এবং ‘অভিবাসন ও বিদেশী বিষয়ক আদেশ-২০২৫’-এর বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

মামলার প্রধান তথ্য ও আইনি পয়েন্টসমূহ

নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকার বিতর্ক: শাহিন ফকিরের দাবি, তার মা শাহিদা ভারতের নাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রামের ৬৩ জন বাসিন্দা স্বাক্ষরিত আবেদনেও এর সত্যতা মিললেও, সাম্প্রতিক স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয় (যা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন)।

মুম্বাইয়ে আটক ও আইনি অধিকার খর্ব: অভিযোগ অনুযায়ী, জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মী হিসেবে মুম্বাইয়ে কর্মরত শাহিদাকে গত ১৯ জুলাই পুলিশ পরিচয়ে আটক করা হয়। মোবাইল ও পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় তাঁকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না এনে আটক রাখা হয়।

কনস্যুলার যাচাই ছাড়া ‘পুশ-ব্যাক’: আটকের ৫ দিন পর কোনো বিচারিক আদেশ, জাতীয়তা যাচাই বা কনস্যুলার প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁকে বিএসএফের (BSF) হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস মুরলিধর যুক্তি দেন, নতুন এসওপি ও অভিবাসন আদেশের কারণে সংবিধানিক সুরক্ষা ছাড়াই আটক ব্যক্তিদের অন্যায্যভাবে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এখন বিষয়টিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জবাব চেয়েছেন।

এনএন/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language