আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর – সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি দেশ ছাড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনও তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বলে তথ্য নেই। দুদকের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য সামনে আসে। একই দিনে আসিফ মাহমুদের সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) কাছে দুদকের চিঠি পাঠানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ। এর মধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
তবে এই ১১ হাজার কোটি টাকার বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগের অংশ। এটি আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অর্থপাচারের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। দুদক এসব অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে অনুসন্ধান করছে।
দুদক সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়। অনুসন্ধানের পরিধি পরে অর্থপাচার ও অন্যান্য অভিযোগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, অনুসন্ধান করতে চাইলে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।
দুদকের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি আপত্তিও জানিয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর তিনি অভিযোগসংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য দুদককে ২৪ ঘণ্টা সময় দেন এবং প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান আইন ও বিধি অনুযায়ী চলছে। ১৪ সেপ্টেম্বর দুদক জানায়, অনুসন্ধানটি কোনো রাজনৈতিক চাপ, পক্ষপাতিত্ব বা নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।
অর্থাৎ, একদিকে আসিফ মাহমুদ অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন; অন্যদিকে দুদক অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুদকের বর্তমান সিদ্ধান্ত হলো দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা। আবেদন অনুমোদিত হয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই এখনই আসিফ মাহমুদের ওপর কার্যকর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলা সঠিক হবে না।
দুদকের যুক্তি, তিনি বিদেশে চলে গেলে চলমান অনুসন্ধান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনা
- ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়।
- ৩ সেপ্টেম্বর: আসিফ মাহমুদ অভিযোগসংক্রান্ত দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
- ৯ সেপ্টেম্বর: দুদক সচিব জানান, আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।
- ১৩ সেপ্টেম্বর: ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের খবর প্রকাশিত হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর: দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়।
এখন দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তথ্য, নথি, সম্পদ ও লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে অনুসন্ধান এগিয়ে নেওয়া হবে।
তদন্ত বা অনুসন্ধানের ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আসিফ মাহমুদের বক্তব্যও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
FAQ
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কি জারি হয়েছে?
না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুদক তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবেদন অনুমোদন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য নেই।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক?
নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অনিয়মসহ দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
১১ হাজার কোটি টাকা কি আসিফ মাহমুদ পাচার করেছেন বলে প্রমাণিত?
না। ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে থাকা অভিযোগ। চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য নেই।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগগুলো নিয়ে কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, দুদক অনুসন্ধান করলে তাঁর আপত্তি নেই; তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
দুদক কেন দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইছে?
দুদকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ বিদেশে চলে গেলে চলমান অনুসন্ধান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।







