আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, মুখ খুললেন সাবেক উপদেষ্টা

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর – অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের পাল্লা আরও ভারী হচ্ছে। বদলি, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের নতুন অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখে তা চলমান অনুসন্ধানের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অনুসন্ধান ও গুরুতর অভিযোগের তালিকা
বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার: দুবাইয়ে ৪,৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি ও সুইজারল্যান্ডে ১,৫০০ কোটি টাকাসহ চার দেশে অর্থ পাচার এবং পর্তুগালে জমি ও দুবাইয়ে বিনিয়োগের অভিযোগ।
বিশাল নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্য: ডিএনসিসি প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি, ৩৬ জন ডিসি পদায়নে কোটি কোটি টাকা, ওয়াসা এমডি পদে ১০ কোটি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি এবং গাজীপুর সিটির সিইও পদে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মারাত্মক তথ্য।
টেন্ডার ও প্রজেক্ট কমিশন: বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ।
স্বজন ও কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট: তাঁর বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম ও পিও মাহফুজুল আলমের মাধ্যমে ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও উৎকোচ গ্রহণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ও ফেসবুকের বার্তা
দুদকের এই বক্তব্য ও প্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বক্তব্য দিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে দুদককে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।”
রাজনৈতিক দৃশ্যপট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে।
এনএন/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







