জাতীয়

কওমি ধারার ৭ ইসলামী দলের মেগা ঐক্য: প্রস্তাবের সমন্বিত রূপরেখা তৈরি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় হেফাজত ও দলগুলো

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশের রাজনীতিতে কওমি ঘরানার ইসলামী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে। হেফাজতে ইসলামের মধ্যস্থতায় কওমি ধারার ৭টি প্রধান ইসলামী দলের পৃথক পৃথক প্রস্তাব সমন্বয় করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করেছে বিশেষ উপকমিটি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ। তবে জোটের রূপরেখা, নির্বাচনের কৌশল এবং দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনো কিছু মৌলিক প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে।

ঐক্য প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

গত ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের গঠিত উপকমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৭টি দলের জমা দেওয়া নিজ নিজ রূপরেখা পর্যালোচনা করে একটি একক খসড়া বা ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করা হয়।

মহাসচিবের অপেক্ষায় বৈঠক: হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলেই ৭টি দলের শীর্ষ নেতাদের ডেকে এই সমন্বিত রূপরেখা পেশ করা হবে।

যেভাবে শুরু: গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এই ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ৩ আগস্টের মধ্যে দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রস্তাবনা জমা দেয়।

কোথায় অমিল? দলগুলোর আলাদা কৌশল ও প্রস্তাবনা

৭ দলই ঐক্যের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হলেও রাজনৈতিক কর্মকৌশল ও জোটের ধরন নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়ে গেছে:

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: তারা রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়ার এবং এই ঐক্যের বাইরে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সাথে আলাদা সমঝোতা না করার পক্ষে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: তারা মনে করে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকলেও প্রতিটি দলের স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন করার অধিকার থাকা উচিত। বর্তমানে অন্য জোটে থেকেও এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করা সম্ভব বলে মনে করে তারা।

খেলাফত মজলিস: তারা চাইছে একটি ‘স্বতন্ত্র ও সুন্দর ঐক্য’। তবে শর্ত হলো—নতুন জোটে যুক্ত দলগুলো অন্য কোনো জোটের সাথে যুক্ত থাকতে পারবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন: তারা অন্য সব বড় দলের সঙ্গ ত্যাগ করে হেফাজতের অভিভাবকত্বে কওমি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নতুন জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট: দল দুটি ‘আহলু সুন্নাত ওয়াল জামাতের’ আকিদা ও নীতি-আদর্শকে প্রধান ভিত্তি ধরে ঐক্যে থাকার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি: তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার কথা বলেছে।

রাজনীতিতে এই ঐক্যের প্রভাব কী হতে পারে?

বিগত নির্বাচনগুলোতে কওমি ধারার দলগুলো বিভক্ত থাকায় রাজনৈতিকভাবে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। হেফাজতের উদ্যোগে যদি এই ৭টি দল একটি কার্যকর ও সুদৃঢ় জোটে পরিণত হতে পারে, তবে তা দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন ও শক্তিশালী ‘তৃতীয় ধারা’ বা ইসলামিক ব্লক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

এনএন/ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button