জাতীয়

পাঁচ মাসে রেকর্ড ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল সরকার

পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার
মার্চ থেকে জুলাই—পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর – দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বিগত সরকারের নেওয়া বিপুল অংকের বিদেশি ঋণের কারণে তৈরি হওয়া চাপের মধ্যেও নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্যমতে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে।

ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত কয়েক বছরে ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২ ২৩ অর্থবছরে যা ছিল ২৬৭ কোটি ডলার এবং ২০২৩ ২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি ও ২০২৪ ২৫ অর্থবছরে তা ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫ ২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান যে আগের দেড় দশকে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সরকারের নেওয়া অনেক ঋণের নীতিগত ও অর্থনৈতিক যুক্তি সঠিক ছিল না।

একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়ার পরও বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ দায় সামলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যেকোনো ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে।

এখন থেকে প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিত করা ছাড়া নতুন কোনো ঋণের দায় নেওয়া হবে না।

এনএন/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

পাঁচ মাসে বাংলাদেশ কত বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে?

২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করেছে।

ঋণের আসল ও সুদ বাবদ কত টাকা দেওয়া হয়েছে?

আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ কি রেকর্ড?

ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের ব্যবধানে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পরিশোধ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

কেন বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে?

বিভিন্ন বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন এসব ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট কত বিদেশি ঋণ পরিশোধ হয়েছে?

ইআরডির হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ভবিষ্যতে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী?

সরকার জানিয়েছে, নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক রিটার্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Back to top button