সংসদে ‘কালো আইন’ পাসের প্রতিবাদে মীর আহমাদ বিন কাসেমের ওয়াকআউট

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর – জাতীয় সংসদে দুটি বিতর্কিত আইন পাসের প্রতিবাদে মুখে ও কানে কালো কাপড় বেঁধে ওয়াকআউট করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তার দাবি, এই আইনগুলো গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করবে।
সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই প্রতিবাদের কথা জানান।
মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, এই আইন সেই রাষ্ট্রের প্রতীক যে রাষ্ট্র গুমের শিকার মানুষের মুখ বন্ধ করে দেয় এবং স্বজনদের আর্তনাদ শুনেও না শোনার ভান করে। অতীতে দীর্ঘ আট বছর আয়নাঘরে বন্দি থাকার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আইনের অস্তিত্ব থাকলে তাকে হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যেত না। ভবিষ্যতে কেউ নিখোঁজ হলে এই আইন তাকে উদ্ধারেও কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের হাতেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া বিচার ব্যবস্থার পরিপন্থী। এটি গুম বন্ধ না করে বরং অপরাধীদের রক্ষার পথ প্রশস্ত করবে।
তিনি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি পুনরায় চালুর দাবি জানান যেখানে তদন্ত কমিশনের নিজস্ব স্বাধীন ক্ষমতা ছিল। গুম এবং দায়মুক্তির বিরুদ্ধে এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এনএন/ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
মীর আহমাদ বিন কাসেম কেন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন?
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত দুটি বিলের কয়েকটি বিধানের প্রতিবাদে তিনি মুখ ও কানে কালো কাপড় বেঁধে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি কোন আইনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন?
তিনি বিশেষভাবে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ গুমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মীর আহমাদ বিন কাসেম কী দাবি করেছেন?
তিনি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের কাঠামো পুনর্বহাল এবং গুমের অভিযোগ তদন্তে আরও স্বাধীন ক্ষমতার দাবি জানিয়েছেন।
সংসদে ৭ সেপ্টেম্বর কয়টি বিল পাস হয়েছে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে মোট তিনটি বিল পাস হয়েছে—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল।







