দুবাইয়ে সম্পদ পাচার: সাবেক মন্ত্রীসহ ৭৩ জনের তথ্য চেয়ে ইউএইতে চিঠি দিচ্ছে দুদক

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর – দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৭৩ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জোরদার অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই তালিকায় সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন।
অভিযুক্তদের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে শীঘ্রই আবেদন পাঠাতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের আওতায় ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানোর প্রস্তুতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি আদান প্রদান করা হয়।
দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান যে দুবাইয়ের অত্যন্ত অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত দুবাই মেরিনা এবং পাম জুমেইরাহতে অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও গ্রহণ করেছেন বলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান যে অর্থপাচারের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তকারী দল ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নির্বাচন কমিশন এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
বর্তমানে দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মূলত ২০২৩ সালের শুরুতে উচ্চ আদালতের এক নির্দেশনার পর দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ অর্জনের বিষয়ে এই বৃহৎ অনুসন্ধান শুরু হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী ২০২০ সাল নাগাদ কয়েকশ বাংলাদেশির মালিকানায় দুবাইয়ে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিপুল সংখ্যক সম্পত্তি ছিল।
এনএন/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







