পাকিস্তানে আবারও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, আগস্টে ১১ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত

ইসলামাবাদ, ৩ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আবারও প্রকট হয়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে করের বোঝা যুক্ত হয়ে আগস্ট মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি আবারও দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে। ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী এই মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের মাসে এই হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে। এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি সরকারি করের প্রভাবও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রায় ২১ মাস পর পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি আবারও ১০ শতাংশের সীমা ছাড়িয়েছিল। মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে সরকারের কর নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং বিভিন্ন করের চাপের বড় অংশই ভোক্তাদের ওপর পড়ছে।
পেট্রোলের প্রতি লিটারে পেট্রোলিয়াম লেভি ও কাস্টমস ডিউটি মিলিয়ে ১১৬ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত কর দিতে হচ্ছে। হাই স্পিড ডিজেলের ক্ষেত্রে এই করের পরিমাণ ১০১ পাকিস্তানি রুপি। গত এক বছরের ব্যবধানে মোটর জ্বালানির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে।
টোলা অ্যাসোসিয়েটসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডলারের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ডিজেলের দাম পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি। জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দামও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে চলেছে। আগস্টে শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ১ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
এক বছরের ব্যবধানে টমেটোর দাম ১২৮ শতাংশ এবং পিঁয়াজের দাম ১২৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গমের দাম ৮৭ শতাংশ এবং গমের আটার দাম ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যের দামও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার এখন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু খাবার নয়, অন্যান্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে।
গ্রামাঞ্চলে এই হার আরও বেশি যা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে জ্বালানি, খাদ্য ও করের বাড়তি চাপ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সামনে নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এস এম/ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
পাকিস্তানে আগস্ট ২০২৬-এ মূল্যস্ফীতি কত ছিল?
পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্সের হিসাবে আগস্ট ২০২৬-এ জাতীয় CPI মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.১৫ শতাংশ, প্রকাশিত এক দশমিক হিসাবে ১১.১ শতাংশ।
জুলাইয়ে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি কত ছিল?
জুলাই ২০২৬-এ পাকিস্তানের CPI মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.২ শতাংশ।
পাকিস্তানে কোন খাদ্যপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে?
আগস্টে গত বছরের তুলনায় টমেটোর দাম ১২৮.১৩ শতাংশ এবং পেঁয়াজের দাম ১২৪.২৮ শতাংশ বেড়েছে। গমের দাম বেড়েছে ৮৬.৭২ শতাংশ এবং আটার দাম ৭৩.১২ শতাংশ।
পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কত?
আগস্টে গ্রামাঞ্চলের CPI মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.২২ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের ১০.৪৩ শতাংশের চেয়ে বেশি।
পাকিস্তানে গম আমদানির সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে?
দেশীয় চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি সামলানো, বাজারে গমের সরবরাহ বাড়ানো এবং মূল্যচাপ কমানোর লক্ষ্যেই সরকার ১০ লক্ষ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগস্টে পাকিস্তানের পরিবহন খাতে মূল্যবৃদ্ধি কত ছিল?
জাতীয় CPI অনুযায়ী আগস্টে পরিবহন খাতে বছরওয়ারি মূল্যবৃদ্ধি ছিল ২০.১৭ শতাংশ।







