মধ্যপ্রাচ্য

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিবেশগত গণহত্যার অভিযোগ

বৈরুত, ১২ আগস্ট – দক্ষিণ লেবাননের বনাঞ্চল, প্রাচীন জলপাই বাগান এবং কৃষিজমিতে ক্রমাগত অগ্নিসংযোগ করে পুরো অঞ্চলটিকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশবাদীরা একে পরিবেশগত গণহত্যা বা ইকোসাইড হিসেবে অভিহিত করছেন।

তাদের মতে, কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয় বরং কৌশলগতভাবে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। নাবাতিয়াহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের উদ্ধারকর্মীদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলি গোলার আঘাতে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণ করা।

তিনি অভিযোগ করেন যে, সীমান্ত উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে দাহ্য পদার্থ ও সাদা ফসফরাস শেল ফেলা হচ্ছে। এর ফলে শুষ্ক বনাঞ্চল এবং ফসলি জমিতে ভয়াবহ দাবানলের সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ারফাইটারদের ওপরও ড্রোন হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

খিয়াম এলাকায় উদ্ধারকারীরা কাজ করার সময় হামলার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হন। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সময়মতো পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে কেবল সীমান্ত এলাকায় নয় বরং কাফরশুবা, জেজ্জিন এবং পশ্চিম বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী গহীন বনাঞ্চলেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড দেখা গেছে।

ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত রাসায়নিকের কারণে দিনভর জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াই করতে হচ্ছে। লেবাননের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন সাউদার্নার্স এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনুস বলেন, এই অঞ্চলের প্রাচীন পাইন ও ওক গাছের বনগুলো হাজারো অভিবাসী পাখির প্রজনন ও বিশ্রামের স্থান।

এই সম্পদ ধ্বংসের ফলে প্রকৃতির দীর্ঘমেয়াদী পুনর্জন্মের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইসরায়েলি বাহিনীকে বিভিন্ন বিতর্কিত কৌশল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে মধ্যযুগীয় ক্যাটাপল্ট দিয়ে আগুনের গোলক নিক্ষেপ এবং কৃষি জমিতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছিটানোর মতো ঘটনাও রয়েছে।

ইয়ারুন গ্রামের মেয়র হাফেজ ঘাশাম এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবির মাধ্যমে দেখেছেন যে, তাদের শতবর্ষী প্রাচীন জলপাই বাগানগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের ভূমি ধ্বংসের মূল উদ্দেশ্য হলো লেবাননের সীমান্তবাসীদের তাদের ভিটেমাটি থেকে চিরতরে বিতাড়িত করা এবং অঞ্চলটিকে জনমানবহীন মরুভূমিতে পরিণত করা।

এস এম/ ১২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language