শিক্ষা

শিক্ষাখাতের আধুনিকায়নে মাউশির ২৫ উদ্যোগ: ডিজিটাল রূপান্তর ও নতুন সফটওয়্যারের ওপর গুরুত্ব

ঢাকা, ১ আগস্ট – মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের শিক্ষাখাতে ব্যাপক পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২৫টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর, মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই পরিকল্পনাগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় এমপিও ও শিক্ষক বদলি সফটওয়্যার চালুকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভি মনিটরিং, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ওয়ান টিচার ও ওয়ান ট্যাব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে স্কুল পুষ্টি কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে মাউশির প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করা হবে। পেনিট্রেশন টেস্টিং ও সিকিউরিটি অডিটের মাধ্যমে ইএমআইএস সিস্টেমকে ক্লাউড সার্ভারে স্থানান্তর করা হবে। এর ফলে সরকারি শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ করা এবং শূন্যপদের তালিকা তৈরি সহজতর হবে। পাশাপাশি ইনহাউস এআই চ্যাটবট এবং ডিজিটাল ইনভেন্টরি সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে মাউশির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে, গত ১৭ বছরে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের পুনরায় নিয়োগ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে অধিদপ্তর। শিক্ষার্থীদের শিখন অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে জাইকা ও খান একাডেমি বাংলাদেশের সহায়তায় বিশেষ ডিজিটাল লার্নিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গণিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এসব প্ল্যাটফর্ম কাজ করবে।

নারী শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য ও প্রজনন সচেতনতা বৃদ্ধিতে মনের বন্ধু কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এসব উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এনএন/ ১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button