দেশে থামছেই না হামের থাবা: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক!

ঢাকা, ২৮ জুলাই – সারাদেশে শিশুস্বাস্থ্যের ওপর চেপে বসেছে এক নতুন আতঙ্ক—‘হাম’। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন শত শত শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রাণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০৮ জন শিশুর শরীরে হাম ও এর নানা উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে এই উদ্বেগের খবর জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক হিসেব পর্যালোচনা করলে যে ছবি ফুটে ওঠে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। গত এক দিনে পরীক্ষাগারে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১০৫ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাছাড়া আরও ৭৯৩ জন শিশু হামের বিভিন্ন মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৮২৮ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হয়ে ৯৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ৭৩৩ জন শিশু মারা গেছে। এই সাড়ে চার মাসে সারাদেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। এদের মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬৫৬ জনের শরীরে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ১ লাখেরও বেশি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর একটাই—চিকিৎসা নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
লক্ষণ চিনে নিন: কীভাবে সতর্ক হবেন অভিভাবকেরা?
হাম মূলত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
যেসব লক্ষণ দেখা মাত্রই সতর্ক হওয়া জরুরি:
- হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া।
- সর্দি, কাশি এবং মুখ গহ্বরের ভেতরে ছোট ছোট সাদাটে দাগ।
- পুরো শরীরে, বিশেষ করে কান ও মুখের চারপাশ থেকে শুরু করে লালচে দানা বা ‘র্যাশ’ ছড়িয়ে পড়া।
হামের জটিলতা থেকে শিশুদের রক্ষায় এবং অকালমৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া থাকলে রোগের আক্রমণ যেমন রোধ করা সম্ভব, তেমনই প্রাদুর্ভাবও দ্রুত সামাল দেওয়া যায়। পাশাপাশি, কোনো শিশুর শরীরে সামান্যতম লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনএন/ ২৮ জুলাই ২০২৬









