দক্ষিণ এশিয়া

উত্তর প্রদেশে জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার নির্দেশ: বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

লখনউ, ২৮ জুলাই – ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়টির ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ভবনসহ মাত্র দুটি ভবন বৈধ অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

বাকি ৩৮টি ভবন নির্মাণে যথাযথ আইন মানা হয়নি বলে প্রশাসনের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে এসব ভবন সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে বুলডোজার দিয়ে ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি এক আদেশে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন ভবন ভাঙার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

উপাচার্য জহিরউদ্দিন জানিয়েছেন, তারা আদালতের কাছে পুরো আদেশটি বাতিলের আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা আজম খানের রাজনৈতিক অবস্থানই এই সংকটের মূলে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আজম খানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা জাভেদ আলী খানের দাবি, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই নারী। অনেক নারী শিক্ষার্থীর আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর এক-তৃতীয়াংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তারাও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি, ক্যাম্পাসটি যখন নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন এলাকাটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ছিল না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বুলডোজার ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের এই লড়াই কেবল ভবন রক্ষার জন্য নয়, বরং হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।

এস এম/ ২৮ জুলাই ২০২৬


Back to top button