কেয়া কসমেটিকসের ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয়ে অনিয়ম: তদন্তে চার সংস্থা

ঢাকা, ২৮ জুলাই – দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টে জমা না হওয়া এবং সেই অর্থের বিপরীতে গ্রাহকের অসম্মতিতে ফোর্সড লোন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের এই লেনদেন সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে যৌথ অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনা রপ্তানি আয় ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং খাতের নির্ভরযোগ্যতাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক ধরে কেয়া গ্রুপের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৬৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দেশে এলেও সংশ্লিষ্ট চারটি ব্যাংক তা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা করেনি।
অভিযুক্ত ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। যদিও এই আয়ের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে সংরক্ষিত আছে এবং ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয় সফলভাবে আসার সপক্ষে প্রসিড রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট বা পিআরসি প্রদান করেছে।
এরপরেও সেই অর্থ সমন্বিত না করে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করা হয়েছে যা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী ঋণে রূপান্তর করা হয়। কেয়া গ্রুপের দাবি, ব্যাংকগুলোর এই অনিয়মের কারণে তারা প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান অভিযোগ করেছেন, তার রপ্তানি আয় রিয়ালাইজড হওয়ার পরও ব্যাংকগুলো নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে রেখেছে এবং পুনরায় ডেবিট করে জালিয়াতি করেছে। এই বেআইনি ডাবল ডেবিটিংয়ের ফলে তাদের আমদানির পেমেন্ট আটকে গেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থ যদি ব্যাংকিং সিস্টেমে না এসে থাকে তবে তা প্রচলিত আইনের বড় লঙ্ঘন। এই অনিয়মের সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্ত শেষে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমানে দুদক এবং এফআরসি এই বিশাল অংকের অর্থের গতিপথ এবং ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে।
বিশেষ করে কেন রিয়ালাইজড হওয়া অর্থের বিপরীতে লোন বহাল রাখা হলো এবং এর পেছনে কোনো মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রমও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যা শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
এস এম/ ২৮ জুলাই ২০২৬









