জাতীয়

শীঘ্রই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন? শারীরিক কারণের আড়ালে রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের হাওয়া!

ঢাকা, ২৩ জুলাই – বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বড় ধরনের নাটকীয় মোড় নিতে যাচ্ছে। গুঞ্জন নয়, দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে খবর—খুব শীঘ্রই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। চিকিৎসাজনিত বা শারীরিক অসুস্থতাকে বাহ্যিক কারণ হিসেবে দেখানো হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতার বড় ধরনের মারপ্যাঁচ। বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে ইতিমধ্যেই তাঁকে পদত্যাগের ইঙ্গিতপূর্ণ বার দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বঙ্গভবন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ও নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বঙ্গভবনে বিদায়ের সুর: কী ঘটেছিল নেপথ্যে?

বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর অধস্তন কর্মীদের ইতিমধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছু দিন বিশ্রামে থাকবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও পাড়ি দিতে পারেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর একটা বড় অংশ তাঁর অপসারণ দাবি করলেও তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকেই পদে বহাল রাখা হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার দৃশ্যপট পুরো বদলাতে যাচ্ছে।

এক নজরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিয়ম:

  • অনুচ্ছেদ ৫০(৩): রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।
  • অনুচ্ছেদ ৫৪: রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
  • অনুচ্ছেদ ১২৩: পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের নতুন অভিভাবক?

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে পরবর্তী নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে তাঁর মেয়াতেই। ফলে বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন—তা নিয়ে শুরু হয়েছে হিসেব-নিকাশ।

আলোচনায় প্রবীণ রাজনীতিকরা: বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম প্রাথমিক আলোচনায় ছিল।

চুক্তিভিত্তিক সচিবের চমক: সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতার বাইরে গিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক অভিজ্ঞ সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় শীর্ষে উঠে এসেছে।

প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক চাপ সামলানোর গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েই পরবর্তী নাম চূড়ান্ত করা হতে পারে।

পেছনের ফিরে দেখা:

এস আলম কানেকশন ও বিতর্কিত অতীত: ২৩ এপ্রিল ২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে শুরু থেকেই তাঁর এই নিয়োগ ঘিরে ছিল নানা বিতর্ক।

দায়িত্ব/সময়কাল: ২০১১ – ২০১৬ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। দুদক পরবর্তী সময়বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা।

নিয়োগ বিতর্ক: এস আলম গ্রুপের প্রতিনিধি এবং শেখ হাসিনা-শেখ রেহানা বলয়ের পছন্দ হিসেবে বঙ্গভবনে তার আগমন নিয়ে তীব্র সমালোচনা ছিল।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: কেন এই পরিবর্তন এখন?

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি নিজেদের পছন্দের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বেছে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য বঙ্গভবনে একজন সর্বজনগ্রাহ্য অভিভাবক বসানোকে ক্ষমতাসীন দল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এনএন/ ২৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button