ইউরোপে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ: চরম গরমে বিপর্যস্ত ৪১ কোটি মানুষ

ব্রাসেলস্, ৩ জুলাই – ইউরোপে গত জুনের শেষার্ধে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে মহাদেশটির দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ প্রচণ্ড গরমের কবলে পড়েছেন। গত ১৫ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলা এই দুর্যোগে অন্তত ৪১ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন।
বিশ বছর আগের রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের অভিজ্ঞতা থাকলেও ইউরোপ এখনো এ ধরনের চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক এই তাপপ্রবাহে আক্রান্ত এলাকার আয়তন ও জনসংখ্যা ২০০৩ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেই বছর আগস্টের প্রথমার্ধে প্রায় ৩২ কোটি মানুষ চরম গরমে ভুগেছিলেন।
ইউরোপীয় খরা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ইউরোপীয় কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তীব্র এই দাবদাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনেক স্থানে স্কুল ও সংগীত উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি ও দপ্তরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনের এই তাপপ্রবাহে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের প্রায় সব মানুষ এবং স্পেন ও ইতালির তিন-চতুর্থাংশ বাসিন্দা অসহনীয় গরমের শিকার হয়েছেন। আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউক্রেন, বলকান অঞ্চল এবং জার্মানি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের লেইদা শহর ও কাতালোনিয়া অঞ্চলে টানা ১৬ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।
পুরো ইউরোপের প্রায় ৫ কোটি মানুষের বসবাসকারী এলাকায় অন্তত ১০ দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ ফ্রান্সে এক কোটি ৮০ লাখ এবং উত্তর ইতালির পো উপত্যকায় প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ এমন চরম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
এদিকে জার্মানি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডেও জুন মাসের তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
ফ্রান্সে শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতের তাপমাত্রাও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনএন/ ৩ জুলাই ২০২৬









