জাতীয়

বড় পর্দায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারে পুলিশের কড়া নজরদারি, উগ্রতা দেখালেই অ্যাকশন!

ঢাকা, ৩ জুলাই – চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের বাঁধভাঙা উন্মাদনা এবার রূপ নিল চরম সহিংসতায়! ঢাকায় বড় পর্দায় ব্রাজিলের খেলা দেখা এবং জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বুকে এমন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত উগ্রতা ও সহিংসতা রুখতে এবার ঢাকার প্রতিটি স্পটে বড় পর্দায় খেলা দেখার জায়গাগুলোতে বিশেষ নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। থানা পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক টিম।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই কড়া বার্তা দেন।

ব্রাজিল-ম্যাচের আনন্দ যেভাবে রূপ নিল খুনাখুনিতে:

গত বুধবার রাতে রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এর পেছনের মূল কারণ—যা শুরু হয়েছিল গত সোমবার রাতের একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে!

সোমবার রাতের ঘটনা: সোমবার রাতে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা ও জয় উদযাপন করতে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজাচ্ছিল। এ সময় সাউন্ড ও হৈচৈ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে হাবিব নামের এক ব্যক্তি ‘নিরব’ নামের এক যুবককে মারধর করেন।

বুধবার রাতের প্রতিশোধ: সোমবারের ওই মারধরের ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে আদাবর নবোদয় হাউজিং এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাঁধে। সেখানে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে নির্মমভাবে খুন হন স্থানীয় বিএনপির ইউনিট সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। এই হামলায় স্থানীয় বিএনপির ইউনিট সভাপতিও গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

ময়মনসিংহে ডিবি অভিযান: একই পরিবারের ৩ জনসহ গ্রেফতার ৪

হত্যাকাণ্ডের পর পরই মাঠে নামে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমান।

বাবার সামনেই দুই ভাইয়ের কোপ: ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রিপনই মূলত বাদশাকে সরাসরি ছুরিকাঘাত করেছিলেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, গ্রেফতারকৃত রিপন ও নিরব আপন ভাই এবং মজনু হলেন তাদের জন্মদাতা পিতা! অর্থাৎ, বাবার সামনেই দুই ভাই মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

বড় পর্দায় খেলা দেখা নিয়ে ডিএমপির কড়া আলটিমেটাম

এই ঘটনার পর ঢাকা মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজধানীর কোথায় কোথায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হচ্ছে, ডিএমপির সব থানাকে তা এখনই তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “খেলাধুলার আনন্দ যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা যেন কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় হার-জিত থাকবেই। নিজের দলের জয় অবশ্যই উদযাপন করবেন, তবে অন্য দলের সমর্থক ও মতের প্রতিও সমান সহনশীল থাকতে হবে। কোনো স্পটে বিশৃঙ্খলা বা উগ্রতা দেখা গেলেই থানা পুলিশ ও ডিবি তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।”

বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, সেজন্য আয়োজকদেরও পুলিশের সাথে যোগাযোগ রেখে স্ক্রিনিং করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এনএন/ ৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language