জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে হারের আসল কারণ জানালেন শান্ত

ঢাকা, ৩০ জুন – সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় কিংবা ঘরের মাঠে লড়াকু ক্রিকেট—সব মিলিয়ে সাদা পোশাকে বেশ দারুণ ছন্দে ছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু হারারে স্পোর্টস ক্লাবের সবুজ উইকেটে পা রাখতেই যেন চেনা সেই ছন্দ কর্পূরের মতো উড়ে গেল! জিম্বাবুয়ের মতো তুলনামূলক শক্তির দলের কাছে ইনিংস এবং ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে চূর্ণ হতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। এমন লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হারের পর স্বাভাবিকভাবেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন দলের ব্যাটাররা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের তীব্র হতাশা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত; অকপটে স্বীকার করেছেন নিজেদের ব্যর্থতার কথা।
অধিনায়কের মতে, ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই আসলে বাংলাদেশ দল ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল, যেখান থেকে আর ফেরার কোনো পথ ছিল না।
হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে অধিনায়ক শান্ত স্পষ্ট ভাষায় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি বলেন, “ম্যাচের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েই আমরা আসলে অনেক পেছনে পড়ে গেছি। প্রথম ইনিংসে আমাদের পুরো ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় চরম হতাশাজনক। কোনো ব্যাটারই ক্রিজে টিকতে পারেনি। শুধু ব্যাটিং নয়, প্রথম ইনিংসে আমাদের বোলিংও যে খুব দারুণ হয়েছে তা কিন্তু না। সোজা কথায়, প্রথম ইনিংসের জঘন্য ব্যাটিং আর ধারহীন বোলিংয়ের কারণেই ম্যাচটা এত বাজেভাবে আমাদের হাত থেকে ফসকে গেছে।”
জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে খেলতে গিয়ে যে টাইগাররা খেই হারিয়ে ফেলেছে, তা শান্তর কথাতেই স্পষ্ট। হারারের কন্ডিশনের ওপর দায় চাপিয়ে শান্ত বলেন, “আমরা এখানকার কন্ডিশনটা ঠিকভাবে রিড (মানিয়ে) করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে এই উইকেটটা আসলেই বেশ কঠিন আর ট্রিকি ছিল। তার ওপর জিম্বাবুয়ের বোলাররা একদমライン-লেন্থ বজায় রেখে খুব ভালো জায়গায় বল করেছে। তবে যত অজুহাতই থাকুক, আমাদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আরও অনেক ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল, যা আমরা কোনো ইনিংসেই করতে পারিনি। এটা ওদের হোম কন্ডিশন, স্বাভাবিকভাবেই ওরা এই উইকেট সম্পর্কে আমাদের চেয়ে বেশি জানে এবং তারা কন্ডিশনটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে—যা আমরা পারিনি।”
‘গত কয়েকদিনের পারফরম্যান্সের সাথে এটা মেলে না’
বাংলাদেশ দল যেভাবে টেস্ট ক্রিকেটে একটা নতুন ব্র্যান্ডের খেলা উপহার দিচ্ছিল, সেই অগ্রযাত্রায় এই হারকে একটি বড় ধাক্কা ও দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ‘অ্যালার্মিং’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শান্ত নিজেও সেই আক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেন, “গত কিছুদিন ধরে আমরা যেভাবে টেস্ট খেলছিলাম, যেভাবে একের পর এক সেশন ধরে লড়াই করার মানসিকতা দেখাচ্ছিলাম, তারপর এমন একটি পারফরম্যান্স অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বেশি হতাশাজনক ও বেদনার।”
প্রথম ইনিংসে ১৪০ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫—দুই ইনিংস মিলিয়েও জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ (৪১০ রান) টপকাতে না পারাটা শান্ত বাহিনীর কড়া সমালোচনা করার জন্য যথেষ্ট। ঘরের মাঠে বা এশিয়ান উইকেটের বাইরে বাউন্সি ও পেস-সহায়ক উইকেটে এলেই যে বাংলাদেশের টেকনিকের কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ে, হারারে টেস্ট যেন আবারও সেটাই প্রমাণ করল।
এনএন/ ৩০ জুন ২০২৬









