অরুণাচলে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ আদিবাসী সংগঠনের, অস্বীকার ভারতীয় সেনার

নয়া দিল্লি, ৩০ জুন – ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী চীনা বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং স্থানীয়দের কৃষিজমি ও চারণভূমি দখল করে নিয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানানো হয়েছে যে অনুপ্রবেশের এমন খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে অরুণাচলের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার আদিবাসীদের সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই অভিযোগ তুলেছে।
সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের জানিয়েছেন চীনা বাহিনীর দখলদারির কারণে গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ ও পশুপালন বন্ধ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে গত ১২ বছর আগে মাঝে মধ্যে ওই এলাকাগুলোতে চীনের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়তো কিন্তু ২০২০ সাল থেকে ওই ভূখণ্ডে চীন পাকাপাকিভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিবৃতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশে চীনা বাহিনীর ঘাঁটি গড়ার যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা ভুল। সেখানে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। তবে আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে আসাফিলা এলাকার ওয়িং এবং পানিয়ার সহ মারপান এবং পোত্রাং এর মতো জায়গায় চীনের আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আদিবাসী নেতা কেরু চাদের সম্প্রতি আপার সুবনসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে একসময় তাদের পূর্বপুরুষরা যে জমিতে অবাধে চলাচল করতেন এখন সেখানে চীনা বাহিনীর সামরিক ক্যাম্প ও সড়ক দেখা যাচ্ছে।
নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো এই বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্যগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
কেরু চাদের আরও জানিয়েছেন যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা তৎপরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তারা প্রতিদিন ইঞ্চি ইঞ্চি করে নিজেদের ভূমি হারাচ্ছেন।
এস এম/ ৩০ জুন ২০২৬









