ঘানার রক্ষণব্যুহ ভাঙতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড, গোলশূন্য ড্রতে সন্তুষ্ট টুখেল বাহিনী

লন্ডন, ২৪ জুন – ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর ইংল্যান্ড ফুটবল দলকে নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র সেই উচ্ছ্বাসে কিছুটা ভাটা ফেলেছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার শক্ত রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়ে ০-০ সমতায় মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
তবে এই হতাশাজনক ফলাফলের পরও ইংল্যান্ড শিবিরে উদ্বেগের কোনো ছাপ দেখা যাচ্ছে না। দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন যে, গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার সুযোগ এখনও তাদের হাতেই রয়েছে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ঘানা সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ম্যাচটিতে প্রভাব ফেলে। তারা মূলত নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থেকে একটি নিশ্ছিদ্র রক্ষণ গড়ে তোলে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশের বেশি সময় বলের দখল ইংল্যান্ডের কাছে থাকলেও তারা কার্যকরী কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি।
ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ম্যাচ শেষে মন্তব্য করেন যে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের কাছে কোনো কার্যকর সমাধান ছিল না। অন্যদিকে টুখেল প্রতিপক্ষের কৌশলের প্রশংসা করে জানান, এমন গভীর রক্ষণভাগ নিয়ে খেলা দলের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন।
ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে সবচেয়ে নিষ্প্রভ ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ঘানার ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় তিনি প্রায় অদৃশ্য ছিলেন। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের বক্সে তিনি মাত্র দুবার বল স্পর্শ করতে সক্ষম হন। শেষ দিকে একটি ভালো সুযোগ পেলেও তিনি সেটি কাজে লাগাতে পারেননি।
উইংয়ে অ্যান্থনি গর্ডনও প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হন। তবে বদলি হিসেবে নামা বুকায়ো সাকা ইংল্যান্ডের আক্রমণে কিছুটা গতি ফেরান। সাকার একটি দারুণ শট ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে ফিরিয়ে না দিলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি মনে করেন, পানামার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে টুখেল দলে কিছু পরিবর্তন আনবেন। রুনির মতে, নিচু রক্ষণভাগের বিপক্ষে বেশি করে ক্রস করা প্রয়োজন ছিল যা ইংল্যান্ড করেনি। মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার অভাব ছিল স্পষ্ট এবং কোল পামার বা ফিল ফোডেনের অভাব অনুভূত হয়েছে।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জয় পাওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েছিল ইংল্যান্ড। নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং মার্ক গেহির একটি হেড গোললাইন থেকে রক্ষা করে ঘানার রক্ষণভাগ। অন্যদিকে ঘানাও পেনাল্টির একটি জোরালো দাবি তুলেছিল।
প্রিন্স কওয়াবেনা আদুকে বক্সের ভেতর ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কনসার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। তবে ড্র করলেও গ্রুপ তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড।
এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬









