কানাডার ঐতিহাসিক জয়ের দিনে ইসমায়েল কোনের পা ভাঙার বিষাদ

অটোয়া, ১৯ জুন – কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করছে কানাডা। তবে এই আনন্দের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকলের শিকার হয়ে বাম পা ভেঙে গেছে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের।
মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে দ্রুত স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে ঘটনাটি ঘটে ডাগআউটের ঠিক সামনেই। পেছন থেকে আসা মাদিবোর ভয়াবহ ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২৪ বছর বয়সী কোনে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে সহখেলোয়াড়রা দ্রুত মেডিকেল টিমকে ডাকেন। কানাডার অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিও জানান, তিনি কাছে গিয়েই বুঝতে পেরেছিলেন কোনের পায়ে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর রিভিউয়ের পর রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
এর আগে প্রথমার্ধেও কাতারের হোমাম আল আমিন লাল কার্ড পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয় কাতারকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কানাডার কোচ জেসি মার্শ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, কোনের পা ভাঙার শব্দ ডাগআউট থেকে স্পষ্ট শোনা গেছে এবং এই ঘটনায় পুরো দল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
কোনেকে দলের অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে মার্শ বলেন, টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। তবে মাঠে চরম যন্ত্রণার মাঝেও স্ট্রেচারে করে যাওয়ার সময় দর্শকদের উদ্দেশ্যে কোনের হাত নাড়ার প্রশংসা করেন কোচ। তার মতে, এটি কোনের অসাধারণ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়।
কোনের ইনজুরির পর তার বদলি হিসেবে মাঠে নামা নাথান সালিবা দলের চতুর্থ গোলটি করার পর সতীর্থের জার্সি উঁচিয়ে ধরে তাকে সম্মান জানান। হ্যাটট্রিক হিরো জোনাথন ডেভিড এমন বিপজ্জনক ট্যাকলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যেখানে বল জেতার কোনো সুযোগ নেই, সেখানে এমন ফাউল করার অর্থ কেবল প্রতিপক্ষকে আঘাত করা।
এদিকে ম্যাচ শেষে দুই দলের সাইড বেঞ্চের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কানাডার কোচ জেসি মার্শ এবং কাতারের কোচ হুলেন লোপেতেগির করমর্দনের সময়ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। মার্শ জানান, ফাউল করা কাতারি খেলোয়াড়টি ড্রেসিংরুমে এসে কোনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং কোনেও তা মেনে নিয়েছেন।
তবে পা ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনায়ও কাতারের সাইড বেঞ্চ যেভাবে লাল কার্ডের প্রতিবাদ করেছে, তাকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানান কানাডার কোচ।
এস এম/ ১৯ জুন ২০২৬









