ফুটবল

কানসাস সিটিতে হচ্ছে না আলোচিত ‘বিশ্বকাপ জেল’, পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক

ওয়াশিংটন, ১১ জুন – আসন্ন ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এই কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে কানসাস সিটিতে একটি অস্থায়ী কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল যা স্থানীয়ভাবে ‘বিশ্বকাপ জেল’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে এই কারাগারটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কানসাস সিটির পর্যটন সংস্থা ভিজিট কেসির তথ্যমতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফুটবলপ্রেমী এই শহরে সমবেত হবেন। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচসহ কোয়ার্টার ফাইনালের মতো বড় লড়াই অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলো এখানে তাদের বেস ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিপুল এই জনসমাগমে অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতেই অস্থায়ী এই বন্দীশালার প্রস্তাব করা হয়েছিল। শহরের রাজনীতিবিদ ও কাউন্সিলম্যানরা বারবার এই অস্থায়ী জেলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন।

কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্স জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে মদ্যপান বা ছোটখাটো বিশৃঙ্খলার ঘটনা সামাল দিতে শহরের নিজস্ব একটি আটক কেন্দ্রের প্রয়োজন। বর্তমান পুনর্বাসন ও আটক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ও সময়সীমা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ১০০ শয্যার এই জেলটি ২০২৬ সালের জুনের আগেই চালু করা হবে। সহকারী সিটি ম্যানেজার জেফ মার্টিন জানিয়েছিলেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গত বছরের ডিসেম্বরেই কাজ শুরু করা দরকার ছিল। সিটি ম্যানেজার মারিও ভাসকেজও বিশ্বকাপ চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছিলেন।

কিন্তু অভিবাসন আইন বিরোধীদের কঠোর প্রতিবাদ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় এই ‘মডুলার জেল’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ১৫১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি স্থায়ী কারাগার নির্মাণের কথা থাকলেও বিশ্বকাপের জন্য অস্থায়ী কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।

এস এম/ ১১ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language