বগুড়া

বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের কালজয়ী অবদান

বগুড়া, ৩০ মে – বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। তার জীবনধারা এবং রাষ্ট্রচিন্তা দেশের মানুষের কাছে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগদানের মাধ্যমে তার সামরিক জীবনের শুরু হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে এক নতুন গতি দিয়েছিলেন।

সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণক্ষেত্রে তার সাহসিকতা আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেন।

জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম স্তম্ভ ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি গ্রামকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে জোর দিয়েছিলেন। খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি ছিলেন এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার লক্ষ্যে সার্ক গঠনের পরিকল্পনা ছিল তার অন্যতম সফল উদ্যোগ। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাধারণ ও সংযমী এই নেতা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণ করেন। তার দেশপ্রেম ও কর্মতৎপরতা আজও এদেশের মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

এস এম/ ৩০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language