উত্তর আমেরিকা

২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার ঘোষণা দিয়েছে নাসা

ওয়াশিংটন, ২৭ মে – চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বা পার্মানেন্ট বেস নির্মাণের লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে রোবোটিক ল্যান্ডার, হপিং ড্রোন এবং বিশেষ যানবাহন পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই প্রকল্পে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিনসহ একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, ২০২৮ সালের মধ্যে পুনরায় আমেরিকান নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানো হবে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্বভাবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার চীন তাদের শেনঝৌ ২৩ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে, যা তিয়ানগং স্পেস স্টেশনে নতুন নভোচারী দল পৌঁছে দিয়েছে।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ২০৩২ সালের মধ্যে পারমাণবিক ও সৌরশক্তি নির্ভর একটি স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান গত মঙ্গলবার বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে চাঁদ নিয়ে গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

এই ঘাঁটিটি নির্মিত হলে সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি মূল্যবান খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাত্রার পথ সুগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ নাসার এই সময়সূচি নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ওপেনের লুনার সায়েন্টিস্ট ড. সিমিওন বার্বার মনে করেন, নাসার ল্যান্ডিং প্রযুক্তি নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, যার ফলে চীন হয়তো প্রথম দেশ হিসেবে পুনরায় চাঁদে মানুষ পাঠাতে সফল হতে পারে। নাসার ইগনিশন মুন বেস প্রকল্পটি মূলত তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম ধাপে রোবোটিক ল্যান্ডার ও ড্রোন পাঠিয়ে দুর্গম এলাকা অনুসন্ধান করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে চালকবিহীন যানের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং তৃতীয় ধাপে পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নাসা আশা করছে, ২০৩২ সাল নাগাদ মানুষ সেখানে আংশিক স্থায়ী আবাসনে বসবাস শুরু করতে পারবে।

এস এম/ ২৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language