রাশিয়ায় মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে শোকের ছায়া

মস্কো, ২৩ মে – রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। শুক্রবার বিকালে রাশিয়া থেকে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর পাঠানো ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরটি পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত জাহাঙ্গীর হোসাইন উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
গত সোমবার ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এক বিস্ফোরণে আরও দুই বাংলাদেশির সঙ্গে তিনি নিহত হন। টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা মৃদুল বর্তমানে রাশিয়ার একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান যে একই ঘটনায় মাদারীপুরের সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার ইউসুফ খানও প্রাণ হারিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল অভিযোগ করেন আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় পাঠায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে তাদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুদ্ধে পাঠানো হয়। জাহাঙ্গীরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের মা জাকিয়া বেগম ছেলের ছবি হাতে বিলাপ করছেন এবং বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাশুকা হোসাইন জানান সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সহায়তায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু তাকে যে এভাবে যুদ্ধে প্রাণ দিতে হবে তা ছিল কল্পনার বাইরে।
নিহতের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন জাহাঙ্গীর জানিয়েছিলেন যে তিনি কয়েকদিন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন।
করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল কবির জানান অফিশিয়ালি কোনো তথ্য না পেলেও পরিবারের মাধ্যমে তারা জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন।
উল্লেখ্য যে এর আগে গত ২ মে একই উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের রিয়াদ রশিদ নামের আরেক যুবক ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
এনএন/ ২৩ মে ২০২৬







