পশুর হাট নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চরম উত্তেজনা! রণক্ষেত্র এড়াতে সাঁথিয়ায় ১৪৪ ধারা জারি

পাবনা, ২১ মে – ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। এর মধ্যেই কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাবনার সাঁথিয়া। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার এক অস্থায়ী পশুর হাটকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক রূপ নেয় যে, বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টা থেকে শুরু করে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভাধীন ইছামতী নদীর তীরে ডাইকের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অনুমতি পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই হাটের প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
কিন্তু গোলমালের সূত্রপাত হয় সেখানেই। নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দরদাতাদের মধ্যে হঠাৎ করেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি থমথমে দেখে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান তাৎক্ষণিকভাবে ওইদিনের কার্যক্রম স্থগিত করেন।
স্থগিত হওয়া নিলামটি পুনরায় সম্পন্ন করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আবার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হলরুমে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়ো হতেই আবারও শুরু হয় কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে হলরুম থেকে বেরিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপরই অবস্থা আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বেলা ১১টায় তড়িঘড়ি করে ইছামতী নদীর ডাইকসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
ইউএনও রিজু তামান্না বলেন: “নদীর ডাইকের পাশে এখনো কোনো পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাটকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে ওই এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন, লাঠিসোঁটা প্রদর্শন, মাইকিং, সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং ৫ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
জামায়াতের অভিযোগ, সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসানের দাবি, “পশুর হাট নিয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের কিছু মহলের যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
বিএনপির পাল্টা দাবি, সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম সম্পূর্ণ উল্টো অভিযোগ করে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে নিলামে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ায় আমরা নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি।”
নদীর ডাইকের পাশে নতুন এই অস্থায়ী হাট নিয়ে যখন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ১৪৪ ধারা জারি, তখন স্বস্তির খবর দিলেন সাঁথিয়া পৌরসভার বোয়ালমারী হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন। তিনি জানান, ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে যেহেতু ১৪৪ ধারা, তাই সেখানে কোনো অস্থায়ী হাট বসবে না। এর বদলে আগামী সোমবার থেকে ঐতিহ্যবাহী বোয়ালমারী পেঁয়াজ হাটেই কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে। ফলে সাধারণ ক্রেতা ও খামারিদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
এনএন/ ২১ মে ২০২৬









